আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > শিল্প-সাহিত্য > দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের জাদুঘরের স্বপ্নে রেজাউল

দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের জাদুঘরের স্বপ্নে রেজাউল

IMG_3527

প্রতিচ্ছবি ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

গানের জগতকে তাল ও সুরের বন্ধনে বাধঁতে বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে। তাই তো এখন শহর থেকে গ্রাম সবখানে সব আয়োজনে এটা ছাড়া যেন গানে পূর্ণতাই আসে না। সংগীত পিপাসুদের কাছে ময়মনসিংহের কোল ঘেঁসে বড় বাজারের সেই ৭৬ বছরের পুরনো নাবাব এন্ড কোং প্রতিষ্ঠানটি এখন ভরসার আলো। সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে যে সকল দেশী-বিদেশী বাদ্যযন্ত্র তার বেশীর ভাগই পাওয়া যাচ্ছে এই বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে।

আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি শতবর্ষের পুরোনো বাদ্যযন্ত্রটিও পাওয়া যাচ্ছে বড় বাজারের এই প্রতিষ্ঠানে। দেশবরেণ্য সংগীতজ্ঞের ব্যবহৃত স্মৃতি ধরে রেখেছেন। বাংলার স্বীয় সংস্কৃতি আকড়ে ধরে রাখার অক্লান্ত প্রয়াসের একটু চেষ্টা।

বর্তমান স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম। রেজাউল করিমের প্রতিষ্ঠানটির আশেপাশে আরো কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র বিক্রয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও বেশীরভাগ ক্রেতা এই নবাব এন্ড কোং এর। দিনের যে কোন সময় এই প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হোক না কেন সংগীত পিপাসুদের ভিড় থাকবেই। সেই সাথে রয়েছে বরেণ্য শিল্পীদের আড্ডা। প্রতিষ্ঠানটির চারদিকে ছড়ানো রয়েছে দেশী-বিদেশী বাদ্যযন্ত্র। নতুন প্রজন্ম এসব পুরনো বাদ্যযন্ত্র তো দেখেনি বা কিভাবে বাজাতে হয় তাও জানে না।

এ সকল বাদ্যযন্ত্র বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখতে ভুমিকা রাখবে বলে রেজাউল মনে করে। মনের তাগিত থেকে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধারনে পুরনো বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করে চলেছেন। স্বপ্ন বুনছেন একটি বাদ্যযন্ত্র জাদুঘর গড়ার। যেখানে শোভিত হবে বরেণ্য শিল্পীদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র ও একতারা, দোতারা, সারিন্দা, সারেঙ্গী, আনন্দ লহরিসহ হারিয়ে যাওয়া পুরনো বাদ্যযন্ত্র। এ জন্য বিভিন্ন দফতরে জানিয়েছেন।

১৯৪৪ সালে দাদা নবাব আলী এ ব্যবসা শুরু করেন। পরে বাবা জালাল উদ্দিন। ২০০৬ সালে বংশপরম্পরায় রেজাউল ব্যবসার হাল ধরেন। ছোটবেলা থেকেই রেজাউলের সখ ছিল এই সকল বাদ্যযন্ত্রের প্রতি। পাঁচ রকমের সেতার, ৫০ রকমের গিটার, নানা ধরনের দোতারা, বীণা স্বরাজ, ঢেম্পারেঙ, বরতাল, চঙ, দভন্ডি, দোতারা, চিকারা, গিনটোঙ, ঘেরা, যোগী সারঙ্গী, হালগি, মুগরবন, পোহল, থিমিলা, শিঙ্গা, একতারা, দোতারা, বেহালা, খমগ, ৮০ থেকে ৯০ বছরের পুরোনো মিষ্টিকুমড়া দিয়ে বানানো তানপুরা ইত্যাদি দুর্লভ বাদ্যযন্ত্র শোভা পাচ্ছে তার কাছে।

এসবের পাশাপাশি সংগীতের বিভিন্ন বই, সিডি, সংগীত সরঞ্জামও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। ততযন্ত্র, আনদ্ধ যন্ত্র, শুষির যন্ত্র এবং ঘন যন্ত্রের চার প্রকারের প্রায় ১০০টি  বিলুপ্তপ্রায় ও বর্তমান সময়ের বাদ্যযন্ত্র নিয়েই জাদুঘরের স্বপ্ন দেখছেন।

এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সাথে রেজাউল করিম বন্ধুদের নিয়ে ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার সাহেব আলী রোডে গড়েছেন শিশুকিশোরদের জন্য নোভিস আর্টিস্টিক এডুকেশন সেন্টার।  যেখানে নাচ-গান, আবৃতি, অভিনয়, চিত্রাংকনসহ বাদ্যযন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার এ স্বপ্ন পূরণে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করে রেজাউল করিম।

কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা / ই এ / আর এইচ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে