আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > লাইফ-স্টাইল > পোশাকে রঙের আধিপত্য

পোশাকে রঙের আধিপত্য

পোশাকে রঙের আধিপত্য [১]

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

হাল ফ্যাশনের যুগে কিছু ফ্যাশন হারিয়ে যায় না। প্রতিনিয়তই ফিরে আসে নতুন রূপে। রঙের আধিপত্যের পাশাপাশি আরামদায়ক হওয়ায় সব বয়সি মানুষের কাছেই সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে টাইডাই, বাটিক বা চুন্দ্রি প্রিন্ট। এতে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে হাজারো রঙ। একই বর্ণের অনেক রূপ শেড আকারে শোভা পায় টাইডাই কিংবা বাটিকের নকশায়।

পোশাকে রঙের আধিপত্য [২]

টাইডাই কি:

টাইডাই বাঁধন পদ্ধতিতে কাপড় রঙ করাকেই টাইডাই বলে। সাধারণত সুতি পোশাকে করা হয় টাইডাই, বাটিক বা চুন্দ্রি প্রিন্ট। একই বর্ণের অনেক রকম শেড আকারে শোভা পায় টাইডাই কিংবা বাটিকের নকশায়। মিষ্টি রঙগুলো টাইডাইয়ের শেডে আনতে চাইলে মূল কাপড় গাঢ় রঙের হলে ভালো দেখায়। টাইডাই নকশা করতে কাপড়ের কোনো কোনো অংশ কুঁচকে নিয়ে সুতা দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর ওই অবস্থায় কাপড়টি নির্দিষ্ট পছন্দের রঙে ডোবালে বাঁধা অংশে রঙ লাগতে পারে না। কিন্তু বাকি কাপড় রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। এভাবে রঙ লাগা ও রঙ না লাগা অংশ মিলে একটা নকশার সৃষ্টি হয়। আবার বাঁধনের মধ্যে অল্প রঙ চুঁইয়ে ঢুকে কিছুটা গাঢ় ও কিছুটা হালকা রঙের শেড তৈরি করে। এ ধরনের নকশাগুলোই টাইডাই নামে পরিচিত।

টাইডাই ও বাটিক দেখতে কাছাকাছি হলেও তৈরির পদ্ধতি ভিন্ন। সুতি কাপড় টাইডাই বা বাটিকের জন্য বেশ উপযোগী। টাইডাইয়ে সহজে নানা রঙের ব্যবহার করা যায়। নকশার মধ্যেও বৈচিত্র্য আনা যায়। বাটিকের মধ্যে সাধারণত ফুল, লতাপাতা নকশার ব্যবহার করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চুন্দ্রি প্রিন্টও করা হয়ে থাকে।

সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা, টপস, স্কার্ট, শাড়িতে তো আছেই; এমনকি ব্যাগ, বর্তমানে স্যান্ডেলের কাপড়েও দেখা যাচ্ছে টাইডাই নকশা।

ফ্যাশন দুনিয়ায় ছেলেরাও চায় একটু নতুন আঙ্গিকে আরামের সাথে নতুন ফ্যাশনে সাজতে। তাই সময়ের সাথে নতুন পোশাকে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের জনপ্রিয়তার শীর্ষে টাইডাই, বাটিক বা চুন্দ্রি প্রিন্টের পোশাক। ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তি এমনকি টি-সার্টের দেখা যায় টাইডাই, বাটিক বা চুন্দ্রি প্রিন্ট। এছাড়া বিছানার চাদর, কুশন কভার,পর্দা প্রভৃতি তৈরিতেও টাইডাই বা বাটিকের কাপড় সমান জনপ্রিয়।

কোথায় পাবেন:

ক্রাফট সেন্টারগুলোতে বাটিকের গজ কাপড় পাবেন। পাবেন ফ্যাশন হাউজগুলোতেও। এছাড়া গাউসিয়া, চাঁদনীচক, নিউমার্কেটসহ শহরের প্রায় সব মার্কেটেই বাটিক প্রিন্টের গজ কাপড় পাওয়া যায় যা দিয়ে শাড়ি তৈরি করে নেয়া যায়। তবে আপনি চাইলে টাইডাই-বাটিক করা গজ কাপড় কিনে অথবা  অনলাইনের বুটিক হাউজগুলো থেকেও বানিয়ে নিতে পারেন।

পোশাকে রঙের আধিপত্য [৩]

টাইডাই পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল করতে হবে। যেমন, কামিজ যদি খুব রঙিন হয়, তবে সালোয়ার এবং ওড়না হতে হবে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের। একরঙা প্যান্ট কিংবা ধুতি সালোয়ার বা স্কার্টের সঙ্গেও পরতে পারেন টপস। তবে স্কার্ট যদি হয় বেশি ঘের দেয়া রঙিন বাটিকের, তবে টপস একরঙা হওয়া চাই। আবার কামিজ ও ওড়নায় থাকতে পারে পায়জামার কয়েকটি রঙ। শাড়িতে বাহারি রঙের শেড থাকলে তারই একটা তুলে আনতে পারেন ব্লাউজে। ব্লাউজে চুন্দ্রি প্রিন্টের টাইডাই করা হলে, শাড়ি একরঙের হলে ভালো দেখাবে। আবার শাড়ির পাড়ে বাটিক করাতে পারেন। এতে দুয়ের সমন্বয় থাকল।

টাইডাই পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল করতে হবে। যেমন, কামিজ যদি খুব রঙিন হয়, তবে সালোয়ার এবং ওড়না হতে হবে অপেক্ষাকৃত হালকা রঙের। একরঙা প্যান্ট কিংবা ধুতি সালোয়ার বা স্কার্টের সঙ্গেও পরতে পারেন টপস। তবে স্কার্ট যদি হয় বেশি ঘের দেয়া রঙিন বাটিকের, তবে টপস একরঙা হওয়া চাই। আবার কামিজ ও ওড়নায় থাকতে পারে পায়জামার কয়েকটি রঙ। শাড়িতে বাহারি রঙের শেড থাকলে তারই একটা তুলে আনতে পারেন ব্লাউজে। ব্লাউজে চুন্দ্রি প্রিন্টের টাইডাই করা হলে, শাড়ি একরঙের হলে ভালো দেখাবে। আবার শাড়ির পাড়ে বাটিক করাতে পারেন। এতে দুয়ের সমন্বয় থাকল।

প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ:

টাইডাই, বাটিকের নকশা করা পোশাকের পাশাপাশি চলতি ট্রেন্ড হল পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নকশা করা ফ্যাশন অনুষঙ্গ ব্যবহার করা। ফ্যাশন হাউসগুলোতে বাটিক বা টাইডাই নকশা করা গলার মালা, সুতার চুড়ি বা বালা, স্যান্ডেল, ব্যাগ স্কার্ফ পাওয়া যাচ্ছে হরহামেশা। গলায় টাইডাই নকশা করা লম্বা মালা, হাতে কাঠ বা সুতার বালা, ফ্ল্যাট স্যান্ডেল, একটু এলোমেলো চুল আর জিন্সের সঙ্গে টপস বা কুর্তা, বাহারি নকশার স্কার্ফ চমৎকার মানিয়ে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে