আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > টাকার বিপরীতে বেড়েছে ডলারের দাম

টাকার বিপরীতে বেড়েছে ডলারের দাম

মার্কিন ডলার

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক

আর্থিক লেনদেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত মাধ্যম ডলার। আমদানি-রফতানি থেকে যেকোনো কেনাকাটার প্রয়োজনেই রয়েছে ডলারের ব্যবহার। সম্প্রতি হঠাৎ করে বেড়েছে বহুল প্রচলিত এ মুদ্রার দাম। সপ্তাহ দু-এক ধরে ব্যবসায়ীদের ৮৩ থেকে ৮৪ টাকা দরে ডলার কিনতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি নিচ্ছে কিছু ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত সোমবার গড়ে ৮২ টাকা ৫০ পয়সা দরে ডলার কেনাবেচা হয়। গত ১ নভেম্বর তা ৮০ টাকা ৯০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। আর গত বছরের ডিসেম্বরেও গড়ে ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল ৭৯ টাকার নিচে।

হঠাৎ করে ডলারের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আমদানির চাপের কথা জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য বড় অঙ্কের ঋণপত্র খুলেছে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঋণপত্র খোলার হার বেড়েছে ৮৮ শতাংশ। ঋণপত্র নিষ্পত্তিও বেড়েছে ২০ শতাংশ। ঋণপত্রের বড় অংশই সরকারি প্রকল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে মূলধনী যন্ত্রপাতি, ভোগ্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানিও বাড়ছে। ঋণপত্র খোলার হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি প্রকল্পের আমদানির প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে বছরের মুনাফা বাড়াতে ব্যাংকগুলো সব ধরনের আমদানি ঋণপত্র ডিসেম্বরের মধ্যেই নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। এ কারণে মূলত ডলারের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু ব্যাংক এই বাজার থেকে বাড়তি মুনাফা করার চেষ্টা করেছে। এ জন্য ২৬টি ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডলারের চড়া দামের কারণে পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। আমদানিকারকেরা বলছেন, ঋণপত্রের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে তাঁদের খরচ বেশি পড়ছে।

বাংলাদেশ পণ্য আমদানি ও রপ্তানিতে সাধারণত ঋণপত্র খোলা হয় ডলারে। কোনো কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের চাহিদা বেড়ে গেলে এর মূল্য বৃদ্ধি পায়। আর ডলারের দাম বাড়লে পণ্য আমদানির ব্যয়ও বাড়ে। তবে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় উৎসাহিত হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মাসের শেষ দিকে ব্যাংকগুলো ডলারের দাম ৮৫ টাকাও নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা কমিয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সেখানকার কিছু ব্যাংক ঋণপত্রের অঙ্ক ১ লাখ ডলারের বেশি হলে বাড়তি দর নিচ্ছে, কিন্তু কাগজে-কলমে দর দেখাচ্ছে ৮৩ টাকা।

ডলারের দাম ধরে রাখতে ২০১২ সালের জুলাই থেকে গত জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনেছে। এখন বিক্রি করছে। সোমবার পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছে ৮৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকট কাটাতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার ২৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি ডলার করা হয়েছে।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে