আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > ম্যানহাটন বিস্ফোরণ: বাংলাদেশে আকায়েদের পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ

ম্যানহাটন বিস্ফোরণ: বাংলাদেশে আকায়েদের পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ

আকায়েদ উল্লাহ

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

বিস্ফোরণের জন্য নিজ বাসাতেই বোমা বানিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন বিস্ফোরণের সন্দেহভাজন হামলাকারী আকায়েদ উল্লাহ। এমনটাই দাবি করেছেন নিউ ইয়র্ক পুলিশের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের এই হামলাকরি ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পুলিশ এখন খুঁজছে বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারকে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, বোমাটি খুবই দুর্বল প্রকৃতির ছিলো। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। তদন্তের সাথে সরাসরি যুক্ত একজন সিএনএনকে বলেন, গত সপ্তাহে ব্রুকলিনে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে বসে এই বোমা তৈরি করেন হামলাকারী।

আহত আকায়েদ উল্লাহ

প্রতিবেদনে বলা হয়, শরীরের সঙ্গেই বোমা বেঁধে রেখেছিলেন আকায়েদ। নিজে স্বজ্ঞানেই বিস্ফোরণ ঘটান বোমার। নিউ ইয়র্কের ইন্টিলিজেন্স এন্ড কাউন্টার টেরোরিজমের ডেপুটি কমিশনার জন মিলার বলেন, ‘ভেলক্রো ও চেইন দিয়ে পাইপ বোমাটি শরীরের সঙ্গে বাঁধা ছিলো।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদ উল্লাহ বাংলাদেশি নাগরিক। ২০১১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে দেয়া সাক্ষাতকারে এক তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আকায়েদ স্বীকার করেছেন যে তিনি সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার প্রতিবাদে এই কাজ করেছেন।

নিউ ইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার ও’নেইল বলেন, ‘আকায়েদ মুখ খুলতে শুরু করেছে কিন্তু আমরা এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা অন্তত দুটি বোমা ছিলো তার কাছে। যেটা বিস্ফোরিত হয়েছে সেটা এক ফুট লম্বা পাইপ ছিলো। বারুদ, ব্যাটারি, তার ও স্ক্রু দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো বোমাটি।

কে এই আকায়েদ, পরিবারকে খুঁজছে পুলিশ:আকায়েদ উল্লাহ [২]

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আকায়েদ উল্লাহর দেশের বাড়ি সন্দ্বীপের মুছাপুরে। বাবার নাম সানাউল্লাহ মিয়া। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে তিনি ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় থাকতেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে তার পরিচিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম জানান, পুলিশ তার পরিবারকে খুঁজছে। এখন পর্যন্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

রয়টার্সকে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহর সম্পর্ক ছিল না। তিনি গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে এসেছিলেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান বলেন, আকায়েদ উল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে থাকতেন। তার সঙ্গে তার মা, বোন ও দুই ভাই থাকেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার আকায়েদ উল্লাহর এক আত্মীয়কে শনাক্ত করে রয়টার্স। আহমেদ উল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি জানান, আকায়েদ উল্লাহর বাবা পাঁচ বছর আগে মারা যান। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে আকায়েদ উল্লাহ সাধারণ সরকারি স্কুলে লেখাপড়া করতেন।

তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা বলেন, আকায়েদ উল্লাহ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক এস্টেটের প্রোপাগান্ডা দেখতেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের শঙ্কা:

এই ঘটনায় শঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন বাপা ও অন্যান্য সংগঠনগুলো প্রবাসীদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সংগঠনটির মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কমিউনিটির সবাই এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।’

কমিউনিটির প্রধান সামসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির সবার জন্য এটি দুঃখের দিন। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে খুবই ভালো আচরণ করেছে। তাদের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে টাইমস স্কয়ারের কাছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটে। এর সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহ নামে এক বাংলাদেশি যুবকের সংশ্লিষ্টতা পায় পুলিশ। বিস্ফোরণে তার শরীর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জখম হয়েছে। এখন তিনি হাসপাতালে রয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন / বিবিসি

এম এম

আরো জানতে পড়ুন

টাইমস স্কয়ারে হামলাকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আকাইদ গ্রেফতার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে