আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > চট্টগ্রাম > কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

pm-hasina20170506140520
প্রতিবেদক
একপাশে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ের সারি। আজ শনিবার ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন এই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ইনানী সৈকতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পর্যটন শহর কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।
আজ দিনভর কক্সবাজারে সরকারের নানান প্রকল্পের উদ্বোধন ও ফলক উন্মেচন করবেন এরপর বিকালে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন ।

b6d975563a381cc68fd2aa908d5f3acf-590d81e94868dমেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এত সুন্দর সমুদ্র সৈকত, কিন্তু কক্সবাজার সবসময় অবহেলিত ছিল। এটাকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করছি।’ কক্সবাজারকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলা হলে এখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনের পর সৈকতে কিছু সময় হাঁটাহাঁটিও করেন সরকার প্রধান। সাগরের পানিতেও নামেন তিনি।pm-hasina20170506152641
হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে শেষ হল তিন ধাপের এ নির্মাণ কাজ। সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে কাজ শেষ হওয়ায় সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এই নির্মাণ কাজের সময় ভূমি ধসে ছয় সেনা সদস্যের মৃত্যুর কথাও স্মরণ করেন তিনি।
এসময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। ইনানী সৈকতের এই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, সড়ক বিভাগের সচিব এম এন সিদ্দিক।
এরআগে সকালে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং উড়োজাহাজ মেঘদূত-এ কক্সবাজার পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। তার এই যাত্রার মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে সুপরিসর বিমান চলাচলের শুরু হল।
শেখ হাসিনা বলেন, “সুপরিসর বড় বিমানের প্রতি সপ্তাহে একটা করে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।”
pm-pic-03দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের নির্মাণ করা এ বিমানবন্দরটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এতদিন কেবল ড্যাস কিউ ৪০০ মডেলের ৭৪ আসনের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে এবং এর চেয়ে ছোট যাত্রীবাহী ও কার্গো উড়োজাহাজই এ বিমানবন্দরে ওঠানামা করত।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী এবং মহেশখালীকে বিনিয়োগের ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা থেকে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার কাজ হাতে নেয় বর্তমান সরকার।

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ও উন্মোচন
প্রধানমন্ত্রী এ সফরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন কাম এক্সামিনেশন হল, কক্সবাজার সরকারি কলেজের ১০০ শয্যার ছাত্রী নিবাস, উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব মহিলা কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন এবং মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইনের উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), এলজিইডির আওতায় কক্সবাজার সদর উপজেলার বাকখালী নদীর উপর খুরু স্কুল ঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্সগার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার আইটি পার্ক, মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, মহেশখালীতে ইনস্টলেশন অব সিংগেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, কুতুবদিয়া কলেজের একাডেমিক ভবন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিস ভবনের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে