আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > শ্রদ্ধায় সিক্ত আনিসুল হক চিরনিদ্রায় শায়িত

শ্রদ্ধায় সিক্ত আনিসুল হক চিরনিদ্রায় শায়িত

শ্রদ্ধায় সিক্ত আনিসুল হক চিরনিদ্রায় শায়িত

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জানাজায় শরীক হতে আর্মি স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিল লাখো জনতা। এর আগে আনিসুল হকের বনানী বাড়িতে হাজির হয়ে তার পরিবারকে স্বান্তনা ও রুহের প্রতি মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের কুলখানি ৬ ডিসেম্বর বুধবার। সেদিন গুলশানের আজাদ মসজিদে বাদ আসর তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রয়াত মেয়রের বাসায় প্রধানমন্ত্রী
প্রয়াত মেয়রের বাসায় প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ মিরপুর আর্মি স্টেডিয়ামে নেয়ার আগ থেকেই অবশ্য সেখানে ছিল জনতার ভিড়। তার পরিচিত ব্যবসায়ী, রাজনীতিবীদ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের অধির অপেক্ষা। ধীরে আর্মি স্টেডিয়ামের পথে এগুচ্ছিল তাকে বহনকারী গাড়িটি। আর সামনে পেছনে শতশত গাড়ির ভিড়। সবশেষে আর্মি স্টেডিয়ামে পৌঁছলেন তিনি। ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত করল তারই নগরবাসী।

24273185_1980898912235527_1222042696_n

এরপর তার লাশ বনানী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেও সাধারনের ভিড় ছিল অসাধারন। কারো চোখ চলছল কেউবা অশ্রুসিক্ত চোখে আরেকজনকে দিচ্ছেন স্বান্তনা। তার বর্ণাঢ্য জীবন নিয়ে অনেকেই ছিলেন স্মৃতিকাতর। এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

আর্মি স্টেডিয়াম এর আগে আর্মি স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন, স্পিকার শিরীন শারমিনের পক্ষে ক্যাপ্টেন মোশতাক আহমেদ, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ ছাড়া বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, বিকেএমইএসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

24337540_1980897652235653_442796974_n

প্রসঙ্গত, শুক্রবার জুমার নামাজের পর লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক জামে মসজিদে আনিসুল হকের প্রথম জানাজা হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তারা জানাজায় অংশ নেন।

24550294_1980919075566844_2014126303_n
নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই রুবানা ও আনিসুল হক যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ অগাস্ট তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি।

pm-anisul_17960

আনিসুল হকের কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবন

তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক ২০১৫ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুলের তৈরি পোশাক ছাড়াও বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি, আবাসন, কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা রয়েছে। ডিজিযাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেড এবং নাগরিক টেলিভিশনের মালিকানাও আছে তার ব্যবসায়িক গ্রুপের।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন আনিসুল হক। তার আগে বিজিএমইএ’র সভাপতিও ছিলেন তিনি। সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মেয়র আনিসুল হকের ছোট ভাই।

রাজনীতিতে কোনো দলে নাম না লেখানো আনিসুল হকের মেয়র প্রার্থী হওয়া অনেকের কাছেই চমক হয়ে এসেছিল। লন্ডনে তার জানাজার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, ‘আমরা অনেকে অবাক হয়েছিলাম তিনি যখন রাজনীতিতে যোগদান করেন।’

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এই দুই বছরে অবৈধ দখল উচ্ছেদসহ বেশ কিছু বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে অনেকের নজর কাড়েন আনিসুল হক। ঢাকার কূটনৈতিকপাড়া বারিধারা ও গুলশানের বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাতও দখলমুক্ত করেন মেয়র আনিসুল। এছাড়া সড়ক প্রশস্তকরণ, ঢাকা চাকা, বিলবোর্ড উচ্ছেদ, গ্রিন ঢাকা কর্মসূচিসহ বেশকিছু উদ্যোগের জন্য আলোচিত হন তিনি।

আর এইচ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে