আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > বিডিআর বিদ্রোহ: রাষ্ট্রপক্ষের তিন আপিল খারিজ

বিডিআর বিদ্রোহ: রাষ্ট্রপক্ষের তিন আপিল খারিজ

বিডিআর বিদ্রোহ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এবং আসামিদের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের তিনটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে মঙ্গলবার এ আদেশ জারি করেন ।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুননানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও জাহিদ সরোয়ার কাজল। এতে করে রাষ্ট্রপক্ষ বিলম্বে আপিল করার যথাযথ যুক্তি দেখাতে না পারায় ১৩ এপ্রিল বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ তিনটি আপিল খারিজ করে দেন।

এদিকে হাইকোর্টের এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ওই আপিলও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

নিম্ম আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন, ২৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৭৭ জনকে খালাস দেয়। এদের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন।

এদিকে হাইকোর্টের এ খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের ওই আপিলও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

নিয়ম অনুযায়ী, ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। একশ ৩৭ জন ফাঁসির আসামি আপিল করেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সবাই আপিল করলেও রাষ্ট্রপক্ষ শুরুতে কোনো আপিল করেনি। বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে তিনটি আপিল দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসঙ্গত ,২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দফতরে (পিলখানা) সংঘটিত ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়।

পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। এরমধ্যে হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর রাজধানীর লালবাগের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিচার করা হয়।

বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান। মামলার আসামি ছিল ৮৪৬ জন। এ মামলায় উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহম্মেদ পিন্টু (কারাগারে মৃত্যু), স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলীসহ ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে আরো ২৫৬ জনকে। আর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন ২৭৭ জন।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে