আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খুলনা > তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: ক্ষুব্ধ শার্শা বিএনপি

তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার: ক্ষুব্ধ শার্শা বিএনপি

 মফিকুল হাসান তৃপ্তি

প্রতিচ্ছবি বেনাপোল প্রতিনিধি

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার খবরে শার্শা বিএনপির নেতা কর্মিরা কেউ খুশি আবার কেউ অখুশি। ওয়ার্ড থেকে উপজেলা পর্যন্ত চলছে মিষ্টির ছড়াছড়ি। তবে তৃপ্তি দলে ফিরলে শার্শা বিএনপি আবারও চাঙ্গা হবে দাবি করছেন তৃনমুল বিএনপির নেতাকর্মিরা।

গত ১৯ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঘোষণা দেয়নি।

দলীয় সূত্রে জানাযায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন দলের শতাধিক সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলটির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেন ও দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে বহিষ্কার করেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন ও সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হন।

এ সময় সংস্কারপন্থীদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার আভাসও দেন খালেদা জিয়া। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মফিকুল হাসান তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহার করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে দলীয়ভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

সদ্য দলে ফিরে আসা মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনৈতি শুরু করেছিলাম। ওয়ান ইলেভেনের সময় দল থেকে আমাকে বহিস্কার করলেও আমি অন্য দলে যোগদান করিনি। বিএনপির আদর্শে ছিলাম আছি এবং থাকব। আমার রাজনৈতি জীবন বিএনপি থেকেই শেষ করতে চায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম বলেন, মফিকুল হাসান তৃপ্তির বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে শুনেছি কিন্তু অফিসিয়ালি কোন চিঠি পায়নি। দেশওনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে।

সাংগঠনিক স্বার্থে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সবাই এক মত। শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির বলেন, মফিকুল হাসান তৃপ্তির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি কিছুটা সত্য। তাকে দলে নেওয়ার জন্য কিছু নেতা ম্যাডামের কাছে সুপারিশ করছে আবার আমরা যারা তাকে চাচ্ছিনে তারা ও লবিং করছে। তিনি দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।

 ১০ বছর ধরে দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই তার। থানার নেতাকর্মীরা হামলা, মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কোনো খোঁজখবর নেয়নি। মাঝে মাঝে এলাকায় এসে কিছু লোকজনকে গরু মেরে খাওয়াইছে। আবার ঢাকায় চলে গেছে। দল তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও শার্শায় তাকে কোনোভাবেই ঢুকতে দেওয়া হবে না। কেন্দ্রকে তৃণমূলের দাবি বুঝতে হবে। তৃণমূলকে বুঝে কেন্দ্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শুনছি আজ না কাল তৃপ্তি সাহেবের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হচ্ছে। এবারও ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলে সাংগঠনিকভাবে আমরা জানতে পারবো। আমাদের দাবি কোনোভাবেই যেন তৃপ্তিকে দলে না ফেরানো হয়। দল যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে, আমরা অনুরোধ করবো সেটি বাতিল করার জন্য।

শার্শা উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কটা বলেন, এদের সাথে রাজনীতি করা যায়না। শার্শার বিএনপি কে শেষ করার জন্য তিনি কতিপয় নেতাকে দায়ি করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন এরা শুধু নিজেদের লোক দিয়ে পকেট কমিটি করতে পারেন। কমিটি বাণিজ্য এদের পেশা হয়ে দাড়িঁয়েছে। খালেদা জিয়ার দল বিএনপি খালেদা জিয়া যদি তৃপ্তির বহিস্কার আদেশ তুলে নেয় তাহলে এসব নেতাদের সমস্যা কোথায়।

সাজেদুর রহমান/ই এ/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে