আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > পিলখানা হত্যায় সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়

পিলখানা হত্যায় সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়

Bidiar bidroho-hotyar raty

আর্য সুবর্ণ:

পিলখানায় সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় দুই দিনে ঐতিহাসিক রায় পড়া শেষ করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। রায়ে নিম্ন আদালতের ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৮ জনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এছাড়া সবমিলে ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবনসহ অনান্য সাজা পাওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে খালাস পেয়েছেন আরো ৮৫ জন।

রায় ঘোষণার পর আসামিদের স্বজনদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। আবার অনেকেই খালাসের সংবাদ পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠেন। এই রায়কে ঘিরে গত দুইদিন আদলত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল প্রশাসন।

রায় পড়ার দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার বিকেলে সর্বোচ্চ আদলতে বিচারপতি মো শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বিশেষ বেঞ্চে এই রায় ঘোষণা করা হয়। বেঞ্চে অন্য দুই বিচারপতি হলেন মো আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো নজরুল ইসলাম তালুকদার।

রায়ে যাবজ্জীবন আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের দণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অবশ্য দুই জনের মৃত্যু হয়। আর ১২ জনের খালাস ও জরিমানা কমানোর আদেশ দেন হাইকোর্ট।

অন্যদিকে নিম্ন আদালতে খালাস প্রাপ্ত ৬৯ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেছিলো রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবনের আদেশ দেন আদালত। এছাড়া ৪ জনকে ৭ বছরের কারদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাস বহাল থাকবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

পিলখানার এই মামলায় এরআগে নিম্ন আদালত প্রায় সাড়ে আট’শ জন আসামির মধ্যে ২৫৬ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন। এদের মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছর, ৮ জনকে ৭ বছর ও ৪ জনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর খালাস পেয়েছেন ২৯ জন।

গত রবিবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে এই মামলার রায় ঘোষণার পাঠ শুরু করেন বিচারপরতিগণ। প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার রায়ের নথি ও আরো ১ হাজার পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ নথির সার সংক্ষেপ পাঠ করেন বিচারপতিগণ।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার পর এই মামলার মূল রায় পাঠ শুরু করেন বিচারপতিরা। রায় ঘোষণা শেষ হয় বিকেল ৪ টায়।

উল্লেখ্য, বিডিআর বিদ্রোহের পর ৫৭টি বিদ্রোহের মামলার বিচার হয় বাহিনীর নিজস্ব আদালতে। আর হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে। ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আখতারুজ্জামান ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর এই হত্যা মামলায় যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়া বিডিআরের উপ সহকারী পরিচালক তৌহিদুল আলমসহ বাহিনীর ১৫২ জওয়ান ও নন কমিশন্ড কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসে। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ মামলার সাড়ে ৮০০ আসামির মধ্যে ওই রায়ের দিন পর্যন্ত জীবিত ছিলেন ৮৪৬ জন। তাদের মধ্যে ১৬১ জনকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পাশাপাশি অস্ত্র লুটের দায়ে তাদের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জারিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। এছাড়া ২৫৬ আসামিকে তিন থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেয়া হয়। কারো কারো সাজার আদেশ হয় একাধিক ধারায়।

অন্যদিকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ২৭৭ জনকে বেকসুর খালাস দেয় বিচারিক আদালত। পরে রায়ের বিরুদ্ধে খালাসপ্রাপ্ত ২৭৭ জনের মধ্যে ৬৯ জন আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দায়ের করে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত ৪১০ জন আসামির সাজা বাতিল চেয়ে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। এর মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও কয়েকজনের সাজা বাড়াতে আরও দুটি আবেদন করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু দেরিতে আবেদন করায় গত ১৩ এপ্রিল আবেদন দুটিও বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট। পরে এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশই বহাল রাখে।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর গত ১৩ এপ্রিল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন আদালত। তার সাত মাস ১২ দিন পর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করছে।

এ মামলার হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মোশাররফ হোসেন কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোশাররফ হোসেন সরদার, শেখ বাহারুল ইসলাম ও  জাহিদ সরওয়ার কাজল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী ছিলেন হাসনা বেগম। আইনজীবী ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল বাসেত মজুমদার, মহসীন রশীদ, এস এম শাহজাহান, এ এস এম আবদুল মুবিন, মো. আমিনুল ইসলাম, দাউদুর রহমান মিনা ও শামীম সরদারসহ আরও অনেকে।

এ এস / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে