আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > সমস্যা নিরসনে তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন নেই: কুটনীতিকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সমস্যা নিরসনে তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন নেই: কুটনীতিকদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

Shaikh hasina

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা নিরসনে তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন নেই, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার (২৬ নভেম্বর) হোটেল সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের কুটনীতিকদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমবারের মতো বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও স্থায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নীতির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ ডাকার পক্ষপাতি নই।’ গঙ্গার পানিবণ্টন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি করার পর ভারত থেকে শরণার্থীদেরকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তৃতীয় পক্ষের কোনো সহযোগিতা নেয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমস্যা থাকতেই পারে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এগুলোর সমাধান করা দরকার।’ এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের কথা তুলে ধরেন তিনি। এই সমঝোতা অনুযায়ী মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে বলেও আশাবাদী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের সমর্থন পেয়েছে জানিয়ে একে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা মানবিক কারণে (রোহিঙ্গাদের) আশ্রয় দিয়েছি বলে বিশ্বের প্রতিটি দেশ সাধুবাদ দিচ্ছে, আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। বাংলাদেশ কখনও কূটনৈতিকভাবে এত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।’

প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার নীতি অব্যাহত রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘মিয়ানমার ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেও আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে জয়ী হয়েছি। এটা কতটা কূটনৈতিক সাফল্য আপনারা বিবেচনা করুন।’

বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও আচরণে বাংলাদেশ সমতা ও সমমর্যাদার নীতিতে থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয়ী জাতি কখনও কারও কাছে মাথা নত করতে পারে না। আমরা মাথা উঁচু করে চলব। আমাদের বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে। আমরা সমমর্যাদা নিয়ে চলব, কারো কাছে করুণা ভিক্ষা নিয়ে চলবো না।’

কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরুন। আমরা যাতে দ্রুত মিয়ানমাররের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফেরাতে পারি সেজন্য ভূমিকা রাখবেন। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- আমরা এই নীতিতে সবার সঙ্গে সুসর্ম্পক রাখতে হবে। সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও। বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিবিআইএন চুক্তি করেছি। ভারত-চায়না-মিয়ানমারের মধ্যেও যোগাযোগ স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে হবে। আমরা নিজের দেশের মানুষের ভাগ্যের যেমন উন্নয়ন করতে চাই, তেমনই প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষেরও। সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

কূটনৈতিকদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আপনারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। কিভাবে দেশে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তাও দেখতে হবে।’

জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যা দিয়ে এটা দূর করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথাও বলা হয় সম্মেলনে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মাটিতে কোনো রকম জঙ্গিবাদ হতে দেব না। তেমনি আমাদের ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে সন্ত্রাস চালাবে, সেটাও আমরা হতে দেবো না। বাংলাদেশ অস্ত্র চোরাকারবারির রাস্তা হবে, সেটা আমরা কোনোভাবে চাই না। এটা করতে গেলেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে যে সুসম্পর্ক, সহযোগিতা দরকার, তেমনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার।’

দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকারের আমলের সাফল্য, নতুন নতুন মিশন স্থাপনসহ নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য ও জনশক্তির জন্য নতুন নতুন বাজার সন্ধানে কূটনীতিকদের নির্দেশ দেন।

আর এইচ/এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে