আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > ‘নৃত্যগুরু মাতা’ রাহিজা খানম ঝুনু আর নেই

‘নৃত্যগুরু মাতা’ রাহিজা খানম ঝুনু আর নেই

রাহিজা খানম ঝুনু

প্রতিচ্ছবি বিনোদন ডেস্ক:

নৃত্যগুরু মাতা রাহিজা খানম ঝুনু মারা গেছেন। রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এ নৃত্যশিল্পী (ইন্নালিলাহি…রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। সম্প্রতি ফুসফুসে পানি জমার পাশাপাশি তার কিডনি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। দেশের কোনো হাসপাতালে তার কিডনি ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হয়নি। বিদেশে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই রোববার সকাল সাড়ে সাতটায় তিনি ইন্তেকাল করেন। সর্বশেষ ল্যাবএইড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন ঝুনু।

হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ কায়েৎটুলীর বাসভবনে নেওয়া হয়েছে।

রাহিজা খানমের মৃত্যুতে নৃত্যাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ব্যাপারে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী বুলবুল ললিতকলা একাডেমির সদস্য সচিব নাসির আহমেদ বলেন, বিভিন্ন অসুখে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন। তবে সব সময়ই তার মনোবল ছিল খুবই শক্ত। তবে বার্ধক্য এক সময় মেনে নিতে হয়েছে। তার মতো গুণি মানুষ খুব কমই জন্মে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী যারা রয়েছেন তাদের বেশিরভাগই ঝুনু আপার হাত ধরে এসেছেন। এদের মধ্যে সেলিনা হক, লুবনা মরিয়ম, মৌ, তারিন, রতন, বাবু, মুনমুন সহ অনেকেই তার স্নেহেপ্রাপ্ত।

তাঁর মেয়ে বেবীও একজন গুণি নৃত্য শিল্পী। রাহিজা খানম ঝুনু সারাজীবন কাটিয়ে দিয়েছেন নাচ নিয়ে এবং নাচকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে। দেশ বিদেশে অনেক সফল নাচের অনুষ্ঠান করে সমাদৃত হয়েছেন। নৃত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন নৃত্য গুরুমাতা।

দেশের খ্যাতিমান এ শিল্পী ১৯৪৩ সালের ২১ জুন জন্ম নেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমির প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তিনি একাডেমির অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলা একাডেমির ফেলো হিসেবে সম্মানিত হন তিনি। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

১৯৬৬ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ভালুকা নিবাসী আমান উল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তার স্বামী। ঝুনু দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৬০ সালে রাহিজা খানম ঝুনু সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে ১৯৬১ সালে পাঁচ বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সে উত্তীর্ণ হন। শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ওই বছরই তিনি বাফায় নৃত্যকলা বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে