আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > মসজিদ-মন্দিরের নামে নদী দখলদারদের জমি দেবে সরকার!

মসজিদ-মন্দিরের নামে নদী দখলদারদের জমি দেবে সরকার!

মসজিদ

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নদীর ওপর দখল নেয়া অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের পাশে দাঁড়াবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এর মধ্যে রয়েছে কেবল বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যারা নদীর জমি দখল করে তৈরী করেছেন স্থাপনা। এছাড়া প্রভাবশালী দখলদারদের কাছ থেকে হুমকি ধামকি পাবার কথাও অকপটে স্বীকার করলেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

নদী দখল করে গড়ে তোলা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে অন্য জায়গায় সেসব প্রতিষ্ঠানকে জমি দেবে সরকার। এছাড়া দখল ঠেকাতে জরিপ চালিয়ে সারা দেশে নদীর সীমানা পিলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স। বুধবার সচিবালয়ে নদীর দূষণ রোধ ও নাব্যতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ৩৬তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

শাজাহান খানসভা শেষে নৌমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান- যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির এমনকি একটি দরবার শরীফও নদীর মধ্যে জায়গা দখল করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেইসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে আমাদের কর্মকর্তারা বসেছেন, আলোচনা করেছেন। সকলেই একমত হয়েছেন যে স্থানান্তরের জন্য তাদের একটা জায়গা দরকার। আমরা যদি তাদের জায়গা দিতে পারি তাহলে তারা মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দির যেগুলো নদীর মধ্যে স্থাপন করেছে, সেগুলো স্থানন্তার করে নেবেন।’

জেলা পর্যায়ে নদী দখল করে স্থাপন করা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরতে ওইসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারি বা খাস জমি বরাদ্দ দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান নৌমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ঢাকার চারপাশে চারটি নদীতে জরিপ চালিয়ে সরকার সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। স্থাপিত পিলারের অর্ধেক নিয়ে আপত্তি ওঠায় সেগুলো আবার যাচাই করা হচ্ছে।

শাজাহান খান বলেন, ‘ঢাকায় মোট নয় হাজার ৪৭৭টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যার অর্ধেক নিয়ে আপত্তি এসেছে। ইতোমধ্যে যাচাই করে ২০ শতাংশ আপত্তির নিষ্পত্তি করা হয়েছে, বাকিগুলোর কাজও অব্যাহত রয়েছে। জরিপ না থাকায় নদীর অনেক জায়গা অনেকে দখল করেছে, জরিপ শেষ হলে সারা দেশে পিলার স্থাপনের কাজ শুরু হবে।’

নদী দখলকারীদের মধ্যে অনেক ‘প্রভাবশালী’ থাকায় দখলদারদের উচ্ছেদে সরকারি কর্মকর্তাদের বেগ পেতে হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান বা কর্মকর্তারা যখন মাঠে যান, তাদের ওপর নানা ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হয়, এজন্য একটু বিলম্ব হয়। তবে আমরা সকল ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে সীমানা পিলার স্থাপন এবং যেখানে আপত্তি আছে সেখানে পুনঃস্থাপন করব। এ ব্যাপারে কারও সঙ্গে আপস করব না।’

উদ্ধার হওয়া জায়গা যেন পুনরায় দখল না হয় তা তদারকি করতে বিআইডব্লিউটিএ এবং ওয়াসাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে