আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > পেন্সিল-আড্ডা: লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মুক্ত আলোচনা

পেন্সিল-আড্ডা: লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মুক্ত আলোচনা

পেন্সিল-আড্ডা: লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মুক্ত আলোচনা [১]

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

“আইন! এ দেশে আইন তো আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য না। ওটা বিত্তবানদের পকেটের ফাঁকে আটকা পড়ে থাকে”। অথবা “চির যৌবন ধরে রাখতে চাইলে তোমাকে একজন বিশেষ সঙ্গী খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের ভাষায় সেই বিশেষ ধরণের পুরুষ মানুষদের বলা হয় “তামালিক”।” এভাবেই ঠাস বুনটের বাক্যবাণে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে গল্প। কখনো ফুটে ওঠে সমাজের অন্ধকার অধ্যায়, কখনো রোমাঞ্চিত হতে হয় থ্রিলার কল্পের আসন্ন দৃশ্যপটে। নিত্য চলে প্রতিভার স্ফুরণ। এমন সব গল্প আর কবিতা, গান, ছবি, কিংবা নিজের মত করে নিজেকে প্রকাশ করার অবাধ উন্মুক্ত জায়গা হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘পেন্সিল’। আত্মোপলব্ধি, নিজ মেধা ও স্বকীয় সত্তার বহিঃপ্রকাশের এ এক নির্ভেজাল প্ল্যাটফর্ম যেনো। বছর পেরিয়ে এবার অনলাইনে শিল্প-সাহিত্য চর্চার প্রসার ও লেখক-পাঠকের মধ্যে মেলবন্ধন আর অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়াসে প্রথমবারের মতো আড্ডার আয়োজন করেছে ‘পেন্সিল’।

রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে বুকশপ ক্যাফে দীপনপুরে ১৮ নভেম্বর ২০১৭, প্রায় তিন ঘণ্টার এ আয়োজনে অংশ নেন পেন্সিল সদস্যরা। লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে কথা বলেন গ্রুপের প্রতিথযশা দুই লেখক এফ কে সয়ফল ও এস এম নিয়াজ মাওলা। পাঠকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তারা, উৎসাহিত করেন বই প্রকাশে। আয়োজনে আরো ছিলো পেন্সিল সদস্যদের গান, আবৃত্তি ও নিজ অভিজ্ঞতার বর্ণনা। প্রাণবন্ত এ আড্ডায় নিজেদের মধ্যে মুক্ত আলোচনায়ও মেতে উঠেন গ্রুপের সদস্যরা। কেউ কেউ খালি গলায় মনোমুগ্ধকর সুর তুলে, কেউবা আবার ভরাট কন্ঠে আবৃত্তি করে মাতিয়ে রাখেন পুরোটা সময়।

পেন্সিল-আড্ডা: লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মুক্ত আলোচনা [২]

লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে ‘পেন্সিল’ এডমিন এস এম নিয়াজ মাওলা ‘পেন্সিল’ নিয়ে নস্টালজিয়ায় হারিয়ে যান। উৎসাহ দেন নতুন লেখকদের। আড্ডা সম্পর্কে তিনি বলেন, “এর আগেও পেন্সিলরদের আড্ডা হয়েছে অনেক। তবে তা ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আড্ডাগুলো হয়েছে খোলা আকাশের নিচে, সেখানে হয়েছে গান কবিতা আবৃত্তি এমনকি জাদু শিল্পের প্রদর্শনীও। জড়ো হয়েছিলেন অনেক সবুজ পেন্সিলররা, মেতে উঠেছিলেন নির্মল আড্ডায়।”

ছোট গল্প, কবিতা সব জায়গায় সমানভাবে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন গ্রুপের জনপ্রিয় লেখক এফ কে সয়ফল। নিজের লেখার প্রেক্ষাপট ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমি মূলত পলিটিকাল স্যাটায়ার লিখে থাকি। এরকম লেখার জন্য অনেক কিছু বুঝে শুনে লিখতে হয়। নিজের লেখার অনেক অনুপ্রেরণা ও ভালবাসা পেয়েছি পেন্সিলরদের কাছ থেকে, যা সত্যি আমাকে মুগ্ধ করে।”

পেন্সিল-আড্ডা: লেখক-পাঠক অভিজ্ঞতা বিনিময় আর মুক্ত আলোচনা [৩]

এরপর ‘পেন্সিলের’ জনপ্রিয় দুইটি সিরিজ ‘শোধ’ ও ‘ডাইনি’ গল্পের লেখিকা লুনা নুসরাত ও সালমা সিদ্দিকাকে মঞ্চে এসে তাদের অভিজ্ঞতা বলার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সেসময় দুই লেখিকা কৌতুহলি পাঠকের জানা-অজানা নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ হলেও, ইন্ডিভিজ্যুয়ালিসমের এই যুগে প্রতিটি পেন্সিলর যেন আত্মার শুদ্ধিতে নিশ্চিতভাবে একাকার হয়ে যেতে পারেন প্রতিটি সত্তায়। ‘পেন্সিল’ পরিবারে অংশ হয়ে, নিজেদের চিন্তা-চেতনা ভাগ করে নেয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াস পেন্সিলের এই আড্ডা। এভাবেই মানুষে মানুষে পৌঁছে যায় শিল্প-সাহিত্যের আলোকবর্তিকা। দিকে দিকে জনে জনে ডিজিটাল মাধ্যমেও ‘পেন্সিল’ ছড়িয়ে দেয় আত্মার মেলবন্ধন। ‘পেন্সিল’ শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নয়, শিল্পচর্চা ও সামাজিক দায়বোধ পালনে অঙ্গীকারপ্রাপ্ত একটি পরিপূর্ণ বলয় হওয়ার ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে যাত্রা করা গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ৩৮ হাজার।

 

এন টি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে