আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > অভিষেকের আক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত

অভিষেকের আক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত

অভিষেকের অক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশে পাঁচ বিদেশি খেলানোর ভিড়ে বাংলাদেশি ‍ক্রিকেটারেদের পারফর্ম করার সুযোগ কিছুটা কমে এসেছে। যার প্রমাণ এবারের আসরের সিলেট পর্বের ম্যাচ গুলো। যেখানে প্রতিটি ম্যাচের জয় পরাজয় ঠিক করে দিয়েছে বিদেশি তারকা ক্রিকেটাররা। তবে ঢাকা পর্বে চিত্রটা কিছুটা হলেও পালটাতে শুরু করেছে। দেশিয় ক্রিকেটারদের ব্যাটে রান দেখা যাচ্ছে। এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছে ইমরুল কায়েস, এনামুল হক বিজয়, আরিফুল হক, মমিনুল হক, জাকির হাসান। এদের মধ্যে জাকির হাসান নামটা একবারেই নতুন। রাজশাহীর হয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরে তার ব্যাটিং কারেশমাই সবাই এখন মুগ্ধ।

অভিষেকের অক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত
জাকির হাসান

জাকির হাসানের বিপিএলর পথ চলার শুরুটা কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে। সে আসরটা ভালো যায়নি তরুণ জাকির হাসানের। চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে গতবার খেলেছিলেন বিপিএলে। কিন্তু আহামরি কিছুই করতে পারেননি বাঁহাতি উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। তবে এবারের আসরে দল বদলে রাজশাহী কিংসের ডেরায় এ নবীন। শুরুর দিকে একাদশে জায়গা না পেলেও সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। পরপর দুই ম্যাচে পারফর্ম করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই করেছেন হাফসেঞ্চুরি (৫১*)। দ্রতু দুই উইকেট হারিয়ে দলে চাপে পড়লে সেখান থেকে দলকে নিয়ে যান জয়ের কাতারে। আবার শনিবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও দারুণ খেলেছেন। ২৩ বলে করেছেন ৩৬ রান। যদিও এতে জয় পায়নি তার দল। তবে জাকিরের এই ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক স্যামি। শিগগিরই জাকিরকে জাতীয় দলে দেখতে চান এই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।

বিপিএল ২০১৭তে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে খেলার সুযোগ পেয়েছেন আরেক তরুণ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লীগেও যিনি ১৭৭ ও অপরাজিত ৮৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এর আগে ২০১৬ সালে বরিশাল বুলসে খেলেছিলেন মেহেদী হাসান। গতবার দুটি ম্যাচ খেললেও মাত্র ১ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন মেহেদী। ব্যাটিংয়েও নামানো হয়েছিলে ৮ নাম্বারে।

অভিষেকের অক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত
মেহেদী হাসান-তামিম

এবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে সুযোগ পেয়েছেন মেহেদী। কুমিল্লার ৫ম ম্যাচে এসে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন বোলার হিসেবেই। কুমিল্লা ১৫৪ রান সংগ্রহ করার পর অফস্পিনার মেহেদীকেই গেইলের সামনে ওপেনিংয়ে বল তুলে দেয় তামিম ইকবাল। নিজের প্রথম ওভার মেহেদী দেন মাত্র এক রান। প্রথম ওভারে গেইলকে ফেরাতে পারতেন। তবে আম্পায়ারের দয়ায় নিশ্চিত লেগবিফোর আউট থেকে বেঁচে যান গেইল। পরের ওভারে ম্যাককালামকেও ফেরাতে পারতেন। তবে স্টাম্পিং করতে পারেননি লিটন দাস।

তৃতীয় ওভারে আর বাঁচতে পারেননি ম্যাককালাম। এগিয়ে এসেছিলেন এই কিউই ব্যাটসম্যান। বলের লাইন মিস করেন বাকিটুকু সঠিকভাবে করতে এবার আর ভুল করেননি লিটন দাস। ম্যাককালামের উইকেটটিই ছিলো টি-টোয়েন্টিতে মেহেদীর প্রথম উইকেট। সেই ওভারের তৃতীয় বলে শাহরিয়ার নাফীসকে বোল্ড করে পুরো ম্যাচটাই নিজেদের দিকে নিয়ে চলে আসেন মেহেদী। চার ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুটি উইকেট। এটিই এনে দিয়েছে তাঁকে ম্যাচসেরার সম্মান।

অভিষেকের অক্ষেপে পুড়ে দ্বিতীয়তে বাজিমাত
মেহেদী হাসান

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সবাইকে চমকে দেওয়া মেহেদীর ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন কম নয়। সৌম্য-এনামুলদের সমসাময়িক হলেও তিনি কখনও অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুযোগ পাননি। এনামুল-সৌম্যরা জাতীয় দলেও ঢুকে পড়লেও মেহেদী ছিলেন আড়ালে।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ভালো খেলে সবার নজর কাড়েন তিনি, জ্বলে ওঠেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই। মেহেদীর ৮৯ বলে ১০৩ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ভর করে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে জয় পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। এরপর শুরু তার এগিয়ে যাওয়া। কিছু দিন আগে বাংলাদেশ সফর করা আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে একটি ওয়ানডেতে অপরাজিত ছিলেন দুই রানে। আর চার দিনের ম্যাচে ৬ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ৩৫ রান করেছিলেন।

৩০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলে একটি সেঞ্চুরি সহ ২৭৪ রান করেছেন মেহেদী, উইকেট নিয়েছেন ৩২টি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে বরং তার পারফরম্যান্স ভালো। ২২ ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি হাফসেঞ্চুরি সহ এক হাজার ২০২ রান করেছেন, উইকেট ২২টি। গত মৌসুমে খুলনার হয়ে মেহেদীর ১৭৭ রানের ইনিংস ভালোই সাড়া ফেলেছিল দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে