আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > বিনোদন-সংস্কৃতি > স্বস্তিতে স্বপ্নালু বইয়ের রাজ্য

স্বস্তিতে স্বপ্নালু বইয়ের রাজ্য

স্বস্তিতে স্বপ্নালু বইয়ের রাজ্য [১]

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

মনের অন্ধকার দূর করে আলোর পথের সঠিক পথ বাতলে দেয় বই। ডিজিটাল ডিভাইসের আর ব্যস্ততার খপ্পরে দিনে দিনে মানুষের পড়ার সুযোগ হারিয়ে ফেলছে, কিন্তু বইয়ের প্রতি আদি ও অকৃত্রিম ভালবাসার কমতি নেই যেন। তাই বইপ্রেমিদের কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে বিশাল পরিসরে, বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘বেঙ্গল বই’। রুচিশীল পাঠক তৈরির লক্ষ্যে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলন-আবহে বই বিপণি ‘বেঙ্গল বই’।

একটু বসে জিরিয়ে নেয়া, একটুখানি অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়ার নিমিত্তে তিনতলা ভবনের পুরোটাই বইয়ে সাজানো। ভবনের দোতলা ও তিনতলাজুড়ে আছে দেশি-বিদেশি বই। নিচতলায় সব শ্রেণির পাঠকের জন্য আছে পুরনো বই ও ম্যাগাজিন, সঙ্গে চা। থাকছে তরুণদের জন্য আড্ডার ব্যবস্থা। এখানে বসে পড়া যাবে পুরোনো বই। পছন্দের বই নিয়ে যাওয়া যাবে বিনামূল্যে। তবে বিনিময়ে ওই ব্যক্তির নিজের সংগ্রহ থেকে দুটি বই ‘বেঙ্গল বই’-এ দিয়ে যেতে হবে। তরুণরা যেন এই জায়গাটাকে নিজের জায়গা ভাবতে পারে, সে জন্যই দেওয়া-নেওয়ার এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দোতলার বারান্দায় বসে কফি খেতে খেতে গল্প করা যাবে। প্রবীণদের জন্য রয়েছে বইয়ে বিশেষ ছাড় এবং বাগানে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশ। ভবনের তিনতলার প্রায় পুরোটাই শিশুদের জন্য। শিশুবান্ধব পরিবেশে বইপড়া ছাড়াও গল্পবলা, আবৃত্তি, ছবি দেখা ও আঁকাআঁকির মধ্য দিয়ে শিশুদের স্বপ্ন ও কল্পনার জগৎ লালিত হবে এ প্রত্যাশা আমাদের। এখানে বইয়ের পাশাপাশি থাকছে লেখাপড়ায় সহায়ক নানা আকর্ষণীয় সামগ্রী।

বেঙ্গল বই-এ থাকছে নিয়মিত পাঠচক্র, কবিতা পাঠের আসর, নতুন লেখা ও লেখকের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভা, প্রকাশনা উৎসব, চিত্র ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন। ছুটির দিনগুলোয় প্রিয়জনদের নিয়ে বাগানে বসে চলতে পারে আড্ডা।

স্বস্তিতে স্বপ্নালু বইয়ের রাজ্য [২]

গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করেছে বই বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল বই’। বিকেলে লালমাটিয়ার বাড়িটির উঠোনে প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। তিনি বলেন, ‘অনন্যসাধারণ সংগীতের উৎসব করে লিটু ঢাকাকে চমকে দিয়েছেন। এবার নিয়েছেন একটি অন্য রকম উদ্যোগ। আজ এ রকম একটি উদ্যোগের শুরুর দিনে আসতে পেরে ভালো লাগছে।’

উদ্বোধনী দিনে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনা প্রজন্মের লেখা ইংরেজি বই স্টোরিস ফ্রম দ্য এজ এর মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। বইটি সম্পাদনা করেছেন রাজিয়া সুলতানা খান এবং নিয়াজ জামান। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা মনে রেখেছেন, এ রকম নারীদের মুখে শুনে গল্পগুলো লিখেছেন ১৪ জন লেখক। এদের বেশির ভাগই নারী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

স্বস্তিতে স্বপ্নালু বইয়ের রাজ্য [৩]
পাঁচদিনব্যাপী বই উৎসবে সামিল হতে পারেন আপনিও।

উদ্বোধনের তৃতীয় দিন, বৃহস্পতিবার, ১৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় থাকছে ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত গান। পাঠশালা ও ইউল্যাব শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন। এখানে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্পী মনিরুল ইসলাম ও নূহাশ হুমায়ূন। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় আবু ইসহাক হোসেন রচিত বাংলার রেনেসাঁস ও লালন ফকির বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন গবেষক, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শিল্পী ফরিদা পারভীন গাইবেন লালনের গান। তাঁর সঙ্গে লালন ফকিরের গান ও দর্শন নিয়ে কথা বলবেন আবু ইসহাক হোসেন।

চতুর্থ দিন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠিত হবে শিশুদের জন্য চিত্রকর্মশালা। এটি পরিচালনা করবেন শিল্পী মুস্তাফিজুল হক। এসময় জাদু পরিবেশন করবেন উলফাৎ কবীর। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্পী কনকচাঁপা চাকমা।

পঞ্চম দিন, শনিবার, ১৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে দশটায় থাকছে ব্যাপ্টিস্ট চার্চ স্কুলের দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী শিশুদের গান, সুরের ধারার শিক্ষার্থীদের সমবেত গান। এদিন গল্প শোনাবেন রূপা চক্রবর্তী এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। সন্ধ্যা ৬টায় খালেদ হোসেইন ও সাজ্জাদ আরেফিন সম্পাদিত সমর সেন: জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক বেগম আকতার কামাল। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠিত হবে সমকালীন কবিদের কবিতা পাঠের আসর- কবিতা কথন।

প্রথমদিনেই বেঙ্গলের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে জমায়েত হয়েছিলেন প্রচুর বইপ্রেমী ও দর্শনার্থী।

এন টি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে