আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > ১০ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

১০ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

১০ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আজ ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনে উপকূলীয় জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায় ‘সুপার সাইক্লোন’ সিডর। সিডর আঘাত হানার পর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সেই দুর্বিষহ স্মৃতি ভুলতে পারনি দুর্গত এলাকার মানুষ। শুকায়নি ভয়াবহ সেই দিনের ক্ষত। সিডরের কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠেন তারা।

২০০৭ সালের এই দিনে সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় সিডর উপকূলে আঘাত করে কেড়ে নেয় ৬৭৭ জনের প্রাণ। নিখোঁজ হয় প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। সে সময় আহত হয় সাড়ে আট হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে দুই হাজার মানুষ হয়েছে পঙ্গু। বিধ্বস্ত হয় ৫৫ হাজার ঘর-বাড়ি, দেড় হাজার মসজিদ-মন্দিরসহ ৩৫১টি স্কুল ও কলেজ। নষ্ট হয়ে যায় প্রায় পাঁচ লাখ একর ফসলি জমি। মারা যায় প্রায় ১৮ হাজার গবাদি পশু। ৪১২টি ড্রেনেজ, স্লুইসসহ বিধ্বস্ত হয়ে যায় এক হাজার ২০৯ কি.মি. বেড়িবাঁধ।

sidor

দীর্ঘ ১০ বছরে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানামুখী উদ্যোগের কারণে উপকূলের এসব মানুষ ঘুড়ে দাঁড়ালেও এখন অনেক এলাকার বাঁধ পুনর্নির্মান করা হয়নি। নির্মিত হয়নি পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার। ফলে এখনও ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে এসব এলাকার বাসিন্ধারা।

সিডরে ভোলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চরচন্দ্রপ্রসাদ গ্রামের নিখোঁজ হন ১৫ জেলে। তাদের ফিরে আসার প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। অনেকে আবার সর্বস্বান্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কেউ।

sidor3

ভয়ঙ্কর সিডরের আঘাতে ভোলার জেলা সদরসহ চরফ্যাশন, মনপুরা ও বোরহানউদ্দিনে ৫২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এছাড়া কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়। নিহত হয় ৪২ জন।

নিঃস্ব অনেক পরিবার গৃহ নির্মাণ করতে না পেরে বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছে। ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও আতঙ্ক কাটেনি ওই এলাকার লোকজনে। ভয়ঙ্কর সেই স্মৃতি তাদের তাড়া করে ফিরছে। যারা বেঁচে আছে তারা জানে না তাদের ভবিষ্যত কী।

১০ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

ভোলা সিপিপির উপপরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন জানান, ভোলা জেলা এখনও দুর্যোগে ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভোলায় এখনও দুই শত সাইক্লোন শেল্টার ও মাটির কিল্লা নির্মাণ প্রয়োজন।

আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে