আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ

শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ

শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ

প্রতিচ্ছবি ডেস্ক:

আজ ১৩ নভেম্বর, বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন৷ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার গীতিকার। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত।

হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন কথাসাহিত্যিক ছিলেন যিনি এই প্রজন্মের অনেককেই রবীন্দ্রনাথ পড়তে আগ্রহী করেছেন। বৃষ্টিতে ভিজতে শিখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন প্রকৃতি কত আবেগ নিয়ে আমাদেরকে ভালবাসে! মধ্যবিত্তের ছোট ছোট সুখ আর বড় বড় দুঃখকে তিনি পরম আদরে সাহিত্য বানিয়েছেন। আর সেইসব আদরমাখা লেখা পড়ে এই প্রজন্মের অনেকের চোখে জল ঝরেছে, হয় হেসে নয়তো কেঁদে।

তিনিই আমাদেরকে দেখিয়েছেন এই বাংলাদেশের পশু-পাখিও যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের “তুই রাজাকার” বলে গালি দেয়, থুতু ছিটায়। বাকের ভাইয়ের মুক্তির দাবিতে তাঁর বাড়িতেই বোমা মারা হয়েছিল। দেয়ালে দেয়ালে চিকা মারা থেকে শুরু করে শ্লোগান উঠেছিল ঢাকাসহ দেশের অনেক জায়গায় – ‘বাকের ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’ বাঙালি মধ্যবিত্তের আবেগ নিয়ে প্রিয় এই লেখক খেলা করতে পারতেন। সমাজের বড় বড় অসংগতি খুব সূক্ষভাবে কটাক্ষ করে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তার কথাসাহিত্যে।

বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে হুমায়ুন আহমেদ অন্যতম। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয়ে থাকে আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। সাহিত্যের যে শাখাতেই তিনি হাত দিয়েছিলেন,তাতেই সোনা ফলিয়েছিলেন। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। হুমায়ুন আহমেদ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও (উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার) হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। শহীদ ফয়জুর রহমানও সাহিত্য অনুরাগী মানুষ ছিলেন।

২০১১ এর সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার সময় হুমায়ূন আহমেদের মলাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্নোয়ান-কেটরিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। তবে টিউমার বাইরে ছড়িয়ে না-পড়ায় সহজে তাঁর চিকিৎসা প্রাথমিকভাবে সম্ভব হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ১২ দফায় তাঁকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর তাঁর কিছুটা শারীরিক উন্নতি হলেও, শেষ মুহূর্তে শরীরে অজ্ঞাত ভাইরাস আক্রমণ করায় তার অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যায়। কৃত্রিমভাবে লাইভ সাপোর্টে রাখার পর ১৯ জুলাই ২০১২ তারিখে হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। মলাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই-এ স্থানীয় সময় ১১:২০ মিনিটে নিউইয়র্কের বেলেভ্যু হসপিটালে এই নন্দিত লেখক মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে নুহাশ পল্লীতে সমাহিত করা হয়। প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ। আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আজ ১৩ নভেম্বর। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন। প্রিয় লেখকের জন্মদিনে তাঁকে জানাই আমাদের অন্তরের অর্ন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে