আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা?

খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা?

খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা? [১]

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক

রাজধানীর স্কুলগুলোর পাশ দিয়ে চলাচলের সময় হরহামেশাই দেখা যায় স্কুলগামী শিশুদের হাতে কাগজের ঠোঙা। চোখে তৃপ্তি নিয়ে বেশ আয়েশ করে ঠোঙা থেকে তুলে ঝালমুড়ি, ভেলপুরি, ফুচকা কিংবা আঁচার জাতীয় খাবার খাচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা; পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন অভিভাবকরা। আসলে কি আছে শিশুর হাতের সেই কাগজের ঠোঙায়? খাবার নাকি জীবাণু?

খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা? [২]লোভনীয় এসব খাবারের দেখা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় স্কুলগুলোর সামনে। স্কুলের আগে, টিফিনের ফাঁকে কিংবা ছুটির পর ছোট ছোট শিশুরা ছুটে গিয়ে ভিড় করে সেসব দোকানে।

বাবা-মায়ের নিষেধ স্বত্তেও এসব খাবারের দিকেই বেশি ঝোঁক স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের। কখনো বা সন্তানের আবদার ফেলতে না পেরে নিজেরাই তুলে দিচ্ছেন পথের এসব খাবারের ঠোঙা। অথচ এসব খাবার থেকেই হতে পারে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ আরো অনেক সংক্রামক ব্যাধি।

সম্প্রতি, লোভে পড়ে ঝালমুড়ি, ভেলপুরি, ফুচকা, আচার খাওয়ার ভয়াবহ পরিণামের কথা জানিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে খাবারের মান পরীক্ষায় রাষ্ট্রের একমাত্র রেফারেন্স প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি (এনএফএসএল)। অস্বাস্থ্যকর এসব খাবারে পাওয়া গেছে ভয়ঙ্কর সব জীবাণু। যা খেলে শিশু আক্রান্ত হতে পারে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস কিংবা এসবের চেয়েও ভয়াবহ সংক্রামক রোগে।

প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার ৪৬টি স্কুলের সামনে থেকে ঝালমুড়ি, ফুচকা, ভেলপুরি ও আচারের নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলোয় কৃত্রিম রং, ইস্ট মোল্ড, ই-কোলাই, কলিফর্ম, মাইকোটক্সিন, সালমোলিনার মতো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সব উপাদান পেয়েছে।খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা? [৩]

গবেষণার জন্য ৪৬টি ঝালমুড়ি, ৩০টি ফুচকা, ১৬টি ভেলপুরি ও ৪২টি আচারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৪৬ ঝালমুড়ির সব কটিতেই মাত্রাতিরিক্ত কলিফর্ম এবং ৩টিতে সালমোনিলা পাওয়া যায়। ৩০ ফুচকার সব কটিতে মেলে কলিফর্ম, ইস্ট মোল্ড, ২৭টিতে ই-কোলাই, সব ভেলপুরিতে ই-কোলাই পাওয়া যায়। তবে আচারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো।

এ গবেষণার সঙ্গে থাকা এক গবেষক জানান, ‘ঢাকার ৫০টির মধ্যে ৪৬টি থানার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি এমন প্রতিষ্ঠানের কাছের দোকানগুলো থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরের নামী স্কুল-কলেজ আছে। সব জায়গার খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন।’

খাবার নাকি জীবাণু; শিশুর হাতে কিসের ঠোঙা? [৪]ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) প্রধান অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসী জানান, ‘চলতি বছরের মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে এসব নমুনা সংগ্রহ করে মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয় এনএফএসএলের নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে।’

রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ইভা। রাস্তার পাশের এসব স্বস্তা অথচ লোভনীয় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি তার খুব ঝোঁক। বাবা-মায়ের নিষেধ স্বত্তেও প্রায় প্রতিদিনই স্কুল ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে তার হাতে দেখা যায় ঝালমুড়ি কিংবা আঁচারের ঠোঙা।

লোভনীয় অথচ নিম্নমানের এসব খাবার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার এই ফলাফল ভয় ধরিয়ে দিয়েছে ইভার মতো স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের মনেও। তাঁদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ, সরকারি প্রশাসন, এমনকি সিটি করপোরেশনকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অভিভাবকদের পাশাপাশি আমরা শিক্ষকরাও ছাত্রছাত্রীদের এসব বিষয়ে সচেতন করি। প্রায়ই স্কুলের সামনের এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট তুলে দিই। কিছুদিন বন্ধ থাকলেও তারা আবার চলে আসে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বা প্রশাসনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তাদের হস্তক্ষেপ ছাড়া এগুলো রোধ করা যাবে না।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ স্কুলের পাশের খাদ্যদ্রব্যগুলোর পরীক্ষার ফলাফল দেখে বলেন, ‘এটা ভয়াবহ ব্যাপার। এসব জীবাণু যদি রক্তে মেশে, তবে শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেবে। এতে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।’ যারা এসব খাবার তৈরি ও বিক্রি করছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

বাবা-মায়েদের ভাষ্য, তারা সন্তানদের সবসময়ই এসব খাবার এড়িয়ে থাকতে বলেন। কিন্তু, অন্যান্য ছেলেমেয়েদের দেখে নিজের সন্তান যখন আবদার করে তখন আর তাদের করার কিছু থাকে না।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে