আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > জেলহত্যা মামলার অনেক আসামিই বিচারের মুখোমুখি হয়নি

জেলহত্যা মামলার অনেক আসামিই বিচারের মুখোমুখি হয়নি

জেলহত্যা মামলার অনেক আসামিই বিচারের মুখোমুখি হয়নি

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

আজ ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস। বাংলাদেশের বুকে রক্তঝরা একটি দিন। নানা ঘাত প্রতিঘাত আর কলঙ্কময় ইতিহাসের স্মৃতিতে এখনো শিউরে ওরে বাংলাদেশের মানুষ। আর্দশের প্রতি অবিচল এই নেতাদের হার না মানার শক্তি আজও তাদের পরিজনদের শোকার্ত না করে গর্বিত করে তোলে। পরিজনদের মতে, জেলহত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে।  সময় এসেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার।

রাজনৈতিক টানাপড়েনে ১৯৭৫ থেকে বারবারই এই মামলা হোঁচট খেলেও শেষ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে জেলহত্যা মামলার বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তদের অনেক আসামিকেই দণ্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের অনেকেই পলাতক রয়েছে। তবে চারজনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে।

যদিও পরিবারের সদস্যরা বিচার থেমে যাওয়া, না হওয়া নিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়েছেন শঙ্কায়। সর্বশেষ বিচারিক আদালতের রায় পাল্টে গিয়ে ২০১৩ সালের হাইকোর্টের রায়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে কোনও আদেশ না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তারা। তবে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে, মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্ট আইন প্রয়োগে ভুল করেছিলেন বলে উল্লেখ থাকায় অনেকটাই স্বস্তি ফিরে আসে। এখন পলাতকদের দণ্ড কার্যকর করা গেলে পূর্ণাঙ্গ স্বস্তি আসত বলে মন্তব্য তাদের।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতকারী সেনাসমর্থিত চক্রান্তকারীরাই কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছিল। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে বিরল।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্যু-পাল্টা ক্যু’র ধূম্রজালের মধ্যে ৩ নভেম্বর সংঘটিত হয় জেল হত্যাকাণ্ড।

জেলহত্যার পর ২১ বছর এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জেলহত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর এ মামলায় আসামি সৈয়দ ফারুক রহমানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারপর বিচারিক আদালতে রায় হয়।

তবে শুধু সেনাসদস্য মোসলেউদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট আপিলের রায় দেয়। ওই রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি মারফত আলী এবং আবুল হোসেন মৃধাকে খালাস দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা, একেএম মহিউদ্দিন আহাম্মদকেও খালাস দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ২৯ বছর পর এর বিচারের রায় হলেও জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যরা এ রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসনের রায়’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, জেলহত্যার ষড়যন্ত্রের দায়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন (লিভ টু আপিল) করা হয়। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আবেদন মঞ্জুর করেন। ফাঁসির তিন আসামির মধ্যে শুধু দুজনকে খালাস দেওয়ায় হাইকোর্টের রায়ের ওই অংশটির বিরুদ্ধে আপিল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষ।

জেলহত্যা মামলার প্রসঙ্গে মোহম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা বিচারপ্রত্যাশী ছিলাম। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগে এই বিচার পাওয়া গেছে। সবার দণ্ড কার্যকর করা গেলে আমরা আরও বেশি স্বস্তি পেতাম।’

আর এইচ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে