আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > দৈনন্দিন জীবনে আইনঃ ভোক্তা অধিকার

দৈনন্দিন জীবনে আইনঃ ভোক্তা অধিকার

837আর্য সুবর্ণ

দৈনন্দিন জীবনে আইন না জানা থাকলে নানা রকম হেনস্তায় পড়তে হয়। অন্তত কিছু আইন আছে যেগুলোর প্রতিকার সহ জেনে রাখা প্রত্যেক সুনাগরিকের দায়িত্ব। প্রতিচ্ছবি পাঠকদের জন্য আজ থাকছে “ভোক্তা অধিকার”

কোনো পণ্য বা সেবা যিনি ভোগ করেন বা ভোগের উদ্দেশ্যে ক্রয় করেন তিনিই ভোক্তা। ভোগের প্রত্যেকটা বস্তু চাই নিরাপদ ও নির্ভেজাল। প্রত্যেক ভোক্তাই তার জীবন ও কাজের নিরাপত্তার জন্য যথোপযুক্ত ও নিরাপদ পণ্য বা সেবা প্রাপ্তির অধিকার চায়।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রালফ নাদের নামের একজন মানবাধিকার কর্মী ভোক্তার অধিকার বিষয়ে প্রথম সরব আন্দোলন গড়ে তোলেন। আমাদের দেশে ভোক্তারা পদে পদে বঞ্চিত। এ অবস্থায় ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় সংসদে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ পাস হয়।

এ আইনের সাফল্য এখনো দৃশ্যমান নয়। এর কারণ হচ্ছে ভোক্তার এই আইন সম্পর্কে অবগত না থাকা এবং আইনের কিছু দুর্বলতা। তবে এই আইনে ভোক্তার অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অপরাধ যেমন মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, সেবার তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করা, পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা, ভেজাল পণ্য বিক্রি, মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারণা, পণ্যের নকল প্রস্তুত, ওজনে কারচুপি, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি ইত্যাদির জন্য অপরাধভেদে বিভিন্ন মেয়াদের কারদন্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনুর্ধ্ব তিন বছর কারাদ- এবং অর্থদ- অনধিক ২ লাখ টাকার বিধান রাখায় ফরমালিন আমদানির পরিমাণ অনেক কমে গেছে।

যে তথ্যটা অনেকের অজানা সেটা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি যদি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভোক্তার অধিকারবিরোধী কার্যের জন্য, আর যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে জরিমানার টাকা থেকে অভিযোগকারী ২৫ শতাংশ পাবেন।

সম্প্রতি অনেক ভোক্তা অভিযোগ করে সফলতা পেয়েছেন। তবু আমাদের অভিযোগ করার ব্যাপারে প্রচুর অনীহা। হয়তো এর কারণ অভিযোগ করার পদ্ধতিটা ঠিকভাবে আমাদের জানা না থাকা। তাছাড়া এই আইনে মারাত্মক কিছু দুর্বল দিক রয়েছে, যেমন ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তার সরাসরি মামলা করার কোনো অধিকার নেই। ভোক্তা অভিযোগ করবে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর মহাপরিচালক বরাবর তারপর সেখান থেকে আদালতে।

আবার ৬১ ধারায় আছে অভিযোগ দায়েরের ৯০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে নয়তো ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করবেন না। যদি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান মহাপরিচালক বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখাতে সক্ষম হয় তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে কোনো তদন্তই হবে না। ভোক্তার এক্ষেত্রে হা করে থাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। আবার কেউ যদি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে তার প্রতিকারের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে মহাপরিচালকের হাত-পা বাঁধা। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিষয়টা অবহিত করবেন মাত্র।

১৫ মার্চ ভোক্তা অধিকার দিবস পালন করা হয়। কিন্তু ভোক্তার অধিকার কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে? খাদ্য-দ্রব্যে ভেজাল, ক্ষতিকর উপাদান মেশানোর কারণে নীরবে প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপে পড়ছে অহরহ ভোক্তা। পচা, বাসি খাবারে সয়লাব সর্বত্র। ভোক্তার অধিকার রক্ষার জন্য ভোক্তার সচেতেনতা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি ভোক্তা অধিকার আইনে সংস্কার এনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদকে একটি সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

photo-1491480296

ভোক্তা হিসেবে পণ্য ও সেবা কিনে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হলে কোথায় কিভাবে এবং কখন অভিযোগ দায়ের করবেনঃ

(ক) যেখানে অভিযোগ দায়ের করা যাবেঃ

* মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১ কারওয়ান বাজার (টিসিবি ভবন-৮ম তলা) ঢাকা, ফ্যাক্সঃ +8802 8189426

* উপ পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শ্রীরামপুর, রাজশাহী, ফ্যাক্সঃ +8807 21772774

* উপ পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম, ফ্যাক্সঃ +8803 12868989

* উপ পরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মহিলা ক্লাব ভবন, বরিশাল, ফ্যাক্সঃ +8804 3162042

* উপ পরিচালক, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, শিববাড়ী মোড়, খুলনা, ফ্যাক্সঃ +880 41724682

* উপ পরিচালক, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট, ফ্যাক্সঃ +8808 21728695

* উপ পরিচালক, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিউ ইঞ্জিনিয়ারিং পাড়া, রংপুর, ফ্যাক্সঃ +8805 215569192

* প্রত্যেক জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

* জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র, টিসিবি ভবন, ৮ম তলা, ১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর: www.dncrp.gov.bd

ইমেল: dncrp@yahoo.com

(খ) অভিযোগ দায়েরের সময়সীমাঃ

* কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

(গ) যেভাবে অভিযোগ দায়ের করতে হবেঃ

* অভিযোগ অবশ্যই লিখিত হতে হবে।
* ফ্যাক্স, ই-মেইল, ওয়েব সাইট, ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে, বা;
* অন্য কোন উপায়ে;
*অভিযোগকারি তাঁর পূর্ণাঙ্গ নাম, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ও ই-মেইল নম্বর (যদি থাকে) এবং পেশা উল্লেখ করবেন।
* অভিযোগের সাথে প্রমাণ হিসেবে ভাউচার/ক্রয় রশিদ এবং ক্ষেত্র বিশেষে ক্রয়কৃত পণ্যের নমুনা প্রদান করতে হবে।
* বাজারের কোন পণ্য বা সেবা পণ্যের ব্যাপারে তথ্য প্রদান অভিযোগ হিসেবে গণ্য হবে না। ভোক্তা নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হইয়া অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে