আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > পরিবেশ > ঈদের ছুটিতে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে

ঈদের ছুটিতে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে

gggggggggg

‘এমন যদি হত আমি পাখির মত,

 উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষণ’

ব্যস্ততম নগর জীবনের ছুটে চলায় যখন ক্লান্ত প্রাণ পাখির মত উড়ে উড়ে বেড়াতে চায় তখন কোন ছুটি বা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ কেইবা হাত ছাড়া করতে চাইবেন। একা কিংবা পরিবার অথবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা অবসান পেতে চান অনেকেই।  আর এই ঘুরতে যাবার ক্ষেত্রে এক একজনের পছন্দ আবার এক এক রকম। কেউবা চান দেশের বাইরে কোথাও ঘুরে আসতে আবার কেউবা চান দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যেতে। এমন কোন পরিকল্পনা থাকলে খুব নিজ দেশের মধ্যেই ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে।

সবুজের শহর মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে প্রকৃতি তার মায়াবি রুপ আর কারুকার্যে যেন সাজিয়েছে আপন হাতে। এখানে ছোট ছোট পাহাড়, পাহাড়ের গাঁ বেয়ে সারিবদ্ধ সাজানো চা বাগান, রাবার,লেবু,আনারসের বাগান, লেক, হাওর, ঝর্ণা কি নেই এখানে?  আর এজন্যই হয়ত শুধু দেশে নয় বিদেশের পর্যটনপিপাসুদের কাছে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান প্রথম সারিতে।

শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানগুলো ও যাতায়াতের কিছু বর্ণনা…….

gচা বাগান:  চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। পূরো  শ্রীমঙ্গল শহরটা ঘিরে রয়েছে শুধু চা বাগান। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌঁছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল পাহাড় ঘেরা চা বাগান। চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বাগান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাঁচা চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখে যেতে পারেন।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: ছোট্ট শহর শ্রীমঙ্গল। দৃষ্টিজুড়ে সবুজ, উটের পিঠের মতোন টিলা আর মনোরম চা বাগান- কোন স্থান ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে মেলে ধরবার জন্য যথেষ্ট। আরও যা রয়েছে তা হচ্ছে লাউয়াছড়া বন । যা এক কথায় অনবদ্য। রেইন ফরেষ্ট হিসেবে খ্যাত এই বনে রয়েছে হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর বৃক্ষাদি। রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির বৃক্ষরাজি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। শ্রীমঙ্গল হতে মাত্র ১০ কিঃমিঃ আর ঢাকা থেকে ১৯৬ কিঃমিঃ। এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর। মোট ১৬টি উল্লুক পরিবার হাজারো পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভারত, চায়না, মায়ানমার এবং বাংলাদেশসহ ৪টি দেশে ওদের প্রজাতি সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের  গাঁ ঘেষে রয়েছে ৩টি আদিবাসী পল্লী। ( মাগুরছড়াও লাউয়াছড়া) ও ১টি ত্রিপুরাদের পাড়া। আদিবাসীদের জীবনযাত্রা সাধারণত পাহাড়ী কৃষ্টি কালচারের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠে যা সাধারনের থেকে অনেক আলাদা। আদিবাসিদের জীবনযাত্রা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য ইত্যাদি দেখতে পাওয়া পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা।

যেভাবে যাবেন:  ঢাকা / সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেন এ করে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে । শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএন জি চালিত অটোরিক্সা অন্যান্য যানবাহন নিয়ে অতি সহজেই ৮/১২ মিনিটের মধ্যে  পৌঁছে যেতে পারবেন লাউয়াছড়ায় । ভাড়া- ২০-৩০ টাকা। লাউয়াছড়ায়    ঢুকতে টিকেট এর দাম পরবে জনপ্রতি ২০ টাকা, গাড়ি পার্কিং এর একটা আলাদা চার্জ আছে। গাইড নিলে ৩০০ টাকা রেট। তবে বনের গভীরে না গেলে গাইড না নিলেও হবে।

ggবিটিআরআই: বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরআই কমপ্লেক্স-এর সামনে শত ফুলের সমাহার, শত বছরের পুরোনো চা গাছ, চা পরীক্ষাগার, চা নার্সারী, চা ফ্যাক্টরী, অফিসার্স ক্লাব ভবনের পেছনে অবস্থিত চোখ ধাঁধানো লেক, রোবাস্টা কফি গাছ, নানা জাতের অর্কিডসহ ভেষজ বাগান আপনার মনকে চাঙ্গা করবেই। অনুমতি সাপেক্ষে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন বিটিআরআই’র পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিদিন বিকেলে ও সরকারি ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নামে বিটিআরআই-তে।

যেভাবে যাবেন: ঢাকা/সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেন এ করে আপনাকে প্রথমেই আসতে হবে শ্রীমঙ্গল শহরে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকসা যোগে আপনাকে যেতে হবে বিটিআরআই তে। ভাড়া-২০-৩০ টাকা।

লেখক : অসমিত অভি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে