আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > সাকিবের আফসোস নির্ভার ডুমিনি

সাকিবের আফসোস নির্ভার ডুমিনি

জেপি ডুমিনি ও সাকিব আল হাসান

মেরাজ মেভিজ:

কাজটা বাংলাদেশের জন্য কতটা কঠিন তা না বললেও চলছে। টেস্ট ও ওয়ানডেতে ধবল ধোলাইর পর টি২০র একটি জয় হতে পারে দেশে ফেরার আগে মুখরক্ষার। আর দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য মুদ্রার উল্টোপিঠ। টাইগার শিবিরে তিন অধিনায়ক থাকলেও নেই ভালো মাপের কোন বিগ হিটার তার ওপর ইনজুরি জর্জরিত দল। এখানেও ব্যতিক্রম প্রোটিয়ারা। ব্যাটিং অর্ডারে হার্ড হিটারের ছড়াছড়ি সঙ্গে প্রতিপক্ষ শিবির থেকে পাওয়া বাড়তি সুবিধা। সব মিলিয়ে আফ্রিকার আাঁধার আরো কালো হয়ে ওঠারই আভাস।

অধিনায়ক হিসেবে সাকিবের পুনরাবির্ভাব নতুন এক অধ্যায়েরই হাতছানি দিচ্ছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক পথচলার সূচনা করবেন কি না, সে প্রশ্নটা কিন্তু এসে যাচ্ছে খুব করেই। কারন স্বাগতিকরা টি২০র দুই ম্যাচেই হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে মাথা হেট করে দেশের পথে উড়তে হবে তিন ফরম্যাটের তিন অধিনায়ক মুশফিক-মাশরাফির সঙ্গে সাকিবকেও।

এমন কঠিন সমিকরনের সামনে ব্লুমফন্টেইনে সিরিজের প্রথম টি২০ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়। যা সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, মাছরাঙ্গা ও সনি সিক্স এইচডি।

এরপর আরেক চ্যালেঞ্জ মাশরাফি বিন মর্তুজার হাত বদলে টি২০র নতুন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এরআগে ২০০৯ সালেই টি২০ ক্রিকেটে দেশের অধিনায়কত্ব করেছেন সাকিব। সে বছর ২ আগস্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টি২০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছিলেন তিনি। টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেলেও টি২০তে নেতা হিসেবে এখনো জয়ের মুখ দেখেননি সাকিব। আজ সেটিই করে দেখাতে চাইবেন তিনি।

টি২০ অধিনায়ক হিসেবে যে চারটি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব তাতে রেকর্ড কিন্তু যাচ্ছেতাই। এরমাঝে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ছিল ১৫১। ২০০৯-এর টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের দেয়া ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে এ রান করেছিল বাংলাদেশ। তার অধিনায়কত্বে ৭৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাও পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৯-১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরের সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে পুরো ২০ ওভারও খেলতে পারেনি টাইগাররা। ড্যানিয়েল ভেট্টোরির দল জিতেছিল পুরো ১০ উইকেটে। তার অধিনায়কত্বে সেটিই দলের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

এদিকে টি২০ ফরম্যাটের টাইগার অধিনায়ক নিজেও তার দল নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তার স্বভাব সুলভ কাটা কাটা উত্তর, ‘চ্যালেঞ্জিং তো বটেই। অনেকের চোটের সমস্যা। টি২০র জন্য আলাদা দল হয় না আমাদের। ওয়ানডে-টেস্ট খেলে যারা, বেশির ভাগ তাদেরই দেখা যাচ্ছে এই সংস্করণে। স্বাভাবিকভাবে দল নির্বাচনে ওইভাবে চিন্তার সুযোগও নেই। খেলোয়াড়ই আছে ১৪ জন। এখান থেকেই সেরা একাদশ করতে হবে। আমাদের জন্য এটা ভালো সুযোগও। এ পরিস্থিতিতেও ভালো জায়গায় যেতে পারলে আমাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখানো যাবে সবাইকে।’

বাংলাদেশের কাছে টি২০টা ভিন্ন গ্রহের কোন ফরম্যাট হয়ে রইলেও সাকিব জানেন কিভাবে এখানে দাপট দেখাতে হয়। সে অভিজ্ঞা থেকেই তার আফসোন বিগ হিটার। তার ভাষায়, ‘অন্য দলের মতো খুব একটা বিগ হিটার নেই আমাদের। ছোট ছোট প্রতিটি বিষয় আমাদের ঠিকভাবে করতে হয়। তা না হলে আমাদের জেতা কঠিন হয়ে যায় এই সংস্করণে। তবে বলব না অসম্ভব। আমাদের এক শতাংশ কাজটাও ঠিকভাবে করতে হবে। একটুও ছাড় দেওয়া যাবে না। তা না হলে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে।’

আর এখানেই প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় শক্তি। দলে রয়েছেন ডি কক, ডুমিনি, ডুপ্লেসিস, ডি ভিলিয়ার্স, মিলারের মতো টি২০র তাণ্ডব তুলতে পারা ব্যাটসম্যানরা। আগের দুই ফরম্যাটের তুলনায় তাই টি২০র উইলো হাতে আফ্রিকানরা তাদের স্কোর কোথায় নিয়ে দাড় করাবেন সেটাই দেখার। এরপর পেসাররা সেটা রুখতে পেসের সঙ্গে বইয়ে দেবেন বাউন্সারের ঝড়।

এদিকে তামিম-মাশরাফি-মোস্তাফিজের অনুপস্থিতে বাংলাদেশ দলে এখন সবচেয়ে বড় ভরসার নাম সাকিব। দলের নেতাও তিনি। দুই চাপে নুইয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এসব নিয়ে যদিও ভাবতে চাচ্ছেন না সাকিব, ‘যত বেশি চিন্তা করব, তত বেশি ঝামেলা! এই দুটি ম্যাচ দল হিসেবে খেলতে হবে। টি-টোয়েন্টি অনেক ছোট সংস্করণ, এখানে চিন্তা করার সময়ও নেই। এটা আমাদের জন্য ভালো দিক। টেস্ট ও ওয়ানডেতে অনেক চিন্তার সময় থাকে। যত বেশি চিন্তা করা হয়, তত জটিলতা বাড়তে থাকে। এখানে চিন্তার সময় নেই, জটিলতা বাড়ার সুযোগও কম। জিনিসটা সহজ রেখে কাজ করলে দুটি ম্যাচে ভালো খেলা সম্ভব।’

ওয়ানডেতেই অফ্রিকানরা টাইগার বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুড়িয়েছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৯ রানের টার্গেট তারা টপকে যায় ১০ উইকেট ৪৩ বল হাতে রেখেই। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৫৩ রান। মাশরাফি বাহিনীর হার ১০৪ রানে। এরপর ৩৬৯ এর জবাবে ৯ ওভার ২ বল হাতে রেখে মাত্র ১৬৯ এ গুটিয়ে যাওয়া। সব মিলিয়ে রঙ্গিন পোশাকে প্রোটিয়াদের ৩ সেঞ্চুরি আর ৫ হাফ সেঞ্চুরি।

টি২০র প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কমিয়ে আনে ছোট-বড় দলের ব্যবধান। দক্ষিণ আফ্রিকা যতই খেলুক নিজেদের কন্ডিশনে কিংবা পরিসংখ্যান যতই তাদের পক্ষে থাকুক, সাকিবকে আত্মবিশ্বাসী করছে এটিই। এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট-ওয়ানডেতে ফল যা-ই হোক, টি২০তে অন্তত ব্যবধানটা খুব বেশি থাকবে না দুই দলের—এটাই আশা বাংলাদেশ টি২০ অধিনায়কের।

অন্যদিকে টি২০ সিরিজও টেস্ট-ওয়ানডের মতো তাদের পক্ষে যাবে বিশ্বাস ডুমিনির, ‘টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের মতো পুরোপুরি টি-টোয়েন্টি সিরিজ আমরা জিততে চাই। আশা করি এই ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে আমি সিরিজ জিতব।’

বাংলাদেশকে নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাচ্ছে না প্রোটিয়ারা। বরং নিজেদের দিকে তাদের পুরো মনোযোগ, ‘বাংলাদেশ কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারে, কারণ তাদের হারানোর কিছু নেই। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। প্রতিপক্ষ ক্যাম্পের ইনজুরি পরিস্থিতি আমাদের এগিয়ে রাখবে।’

প্রসঙ্গত, ৯টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করে সাকিব ১টিতে জয় পেয়েছেন, বাকিগুলোতে হেরেছেন। ওয়ানডেতে অধিনায়কত্ব করেছেন ৫০টি ম্যাচে। এর মধ্যে জয় ২৩টিতে, হার ২৬টিতে।

এরপর আজ শুরু হচ্ছে অধিনায়ক সাকিবের দ্বিতীয় পর্ব। এখন অপেক্ষা মাঠের দ্বৈরথে ব্যবধানটা কমিয়ে এনে আদতেই নিজেদের মুখটা রক্ষা করে দেশে ফেরা।

এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে