আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ভ্যাটে নিত্যপণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না: অর্থমন্ত্রী

ভ্যাটে নিত্যপণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক

ভ্যাট বাড়লেও নিত্যপণ্যের দামে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়াতনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

এসময় অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেককে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভ্যাট আরোপের ফলে পণ্যমূল্য বাড়বে না। পেনশনের জন্য বাজেটে আলাদা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ব্যাংকে রাখা টাকার উপরে কর আরোপ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমরা কোনো আবগারি শুল্ক রাখছি না। এর বেশি যাদের টাকা আছে তাদের আমরা সম্পদশালীই বলতে পারি। যদিও বিত্তবানের কোন সংজ্ঞা নেই। তবে এর বেশি হলে তখন আমরা আবগারি শুল্ক রাখার প্রস্তাব করেছি।

বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যে বৈদেশিক সহায়তা ধরা হয়েছে, এটা অনেক বেশি, তবে আদায় করা সম্ভব। গত কয়েক বছর থেকে আমরা বিপুল পরিমাণ সহায়তা আদায় করছি। পাইপ লাইনে ব্যাপক টাকাও রয়ে গেছে। কিন্তু ব্যবহার করতে পারছি না, এটাই দুর্বলতা।

প্রস্তাবিত বাজেটের প্রভাবে চালের দাম বাড়েনি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যায় বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় চালের বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে, তবে তা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ব্যাংকিং খাত নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। জানান, ‘ব্যাংক খাতে লুটপাট হচ্ছে। আগে সরকারি ব্যাংকগুলোতে হতো, এখন বেসরকারি ব্যাংকে হচ্ছে’ এই ধারণা আমাদের মানতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ ব্যাংক খাতে জালিয়াতি হয়, চুরিচামারি হয়। সব সময় হয়, সব দেশেই হয়।

জালিয়াতি হয়তোবা কোথাও একটু বেশি হয়। এখন আমরা সেটা একটু কমাতে পেরেছি। ব্যাংকে লুটপাট হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। তবে দুই-একটি ব্যাংকে সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো সমাধানেরও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোকে দেয়া হয় এ কথা সত্য। তবে দেশের উন্নয়নে এসব ব্যাংকের ভূমিকা রয়েছে। কারণ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার এসব ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দুই হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোকে আমরা রি-ফাইন্যান্সিং কেন করছি? এটি কি ওই ব্যাংকগুলোর প্রয়োজন পড়ে যেগুলো সরকারের ডাইরেক্টেড কাজ করে? সেখানে অনেক ভর্তুকি দিয়ে, অনেক কম রেট সুদে অনেক কাজ করতে হয়।’

এদিকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘সৌদি আরসহ বিভিন্ন জায়গায় তারা এগারো মাস ব্যবসা করে আর রোজার মাসে তারা মানুষের সেবা দান করে। আর আমাদের দেশে সেটা উল্টো। রোজার মাসে ব্যবসার প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। আমাদের দেশপ্রেমের কিছুটা অভাব রয়েছে বলে আমি মনে করি। দেশ প্রেম থাকলে এইসব জিনিস কিন্তু হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না। আমাদের অনুরোধ থাকবে আপনাদের কাছে, এগুলোকে নিরুৎসাহিত করা।’

এছাড়া কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এই আকষ্মিক বন্যায় একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সেটাকে কাটিয়ে উঠবো। আর কাটিয়ে উঠার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খাদ্যমন্ত্রী ভিয়েতনামের সঙ্গে চাল আমদানির চুক্তি করেছেন।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে