আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম

মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবা-মেয়ে গুরুতর জখম

প্রতিচ্ছবি মাগুরা প্রতিনিধি:

মাগুরা সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে মেয়েকে রক্ষা করতে গিয়ে অপহরণকারীদের হাতে গুরুতর জখম হয়েছেন বাবা। এ সময় বাবার সামনে দুর্বৃত্তরা মেয়েকেও কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় শুক্রবার অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে মাগুরা সদর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামে। আজ শুক্রবার ভোরে গৃরুতর জখম অবস্থ্ায় বাবা, মেয়েকে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সদরের  গাঙ্গনালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পাশ করা ছাত্রী রমা বিশ্বাসের মা রুপসী বিশ্বাস জানান, ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময় থেকে একই এলাকার সজিব মোল্লাসহ একটি বখাটে গ্রুপ তার মেয়েকে উত্যাক্ত করে আসছে। স্কুলে যাতায়াতের সময় প্রতিনিয়ত অশ্লিল প্রস্তাব দিয়ে আসেছে। তারা একাধিকবার তার মেয়ের হাত ও ওড়না ধরে টানটানি করেছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সজিব ও নাজমুল এর নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী  তার মেয়েকে তুলে নিতে তাদের বাড়িতে চড়াও হয়। এ সময় তারা তাদের বাধা দিলে গেলে সন্ত্রাসীরা প্রথমেই তার স্বামী বিনয় বিশ্বাসকে চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথা, কপাল, পিঠ, দুই হাতসহ বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে। এক পর্যায়ে  তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে তারা মেয়েকে তুলে নিতে গেলে তিনিসহ পরিবারের একাধিক সদস্যরা তাকে জাপটে ধরে তাদের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্ঠা করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা চাপতি দিয়ে রুমার পিঠে কোপ দিয়ে রক্তাত্ব জখম করে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিনয় বিশ্বাস জানান, এরআগে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু এলাকার মানুষের চাপে পরে তিনি মামলা তুলে নেন। মামলা তুলে নেয়ার পর থেকে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সবশেষ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ তার মেয়েকে তুলে নিতে তার বাড়িতে আসে। এ সময় বাধা পেয়ে তারা তাকে ও তার মেয়েকে কুপিয়ে জখম করেছে।

আশংকা প্রকাশ কওে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষে কিছু লোক আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমার গোটা পরিবার চরম নিরাপত্তাহীন।’

এদিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ছাত্রী রমা পিঠে ব্যান্ডেজ নিয়ে যন্ত্রনায় ছটফট করছে। তার চোঁখে মুখে আতংকের ছাপ। অপরিচিত মানুষ দেখলেই সে ভয়ে আতকে উঠছে।
মাগুরা ২৫০ শষ্যা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মমতাজ মজিদ জানান, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম অবস্থায় বাবা-মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। শরীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সদর থানার ওসি তদন্ত হোসেন আল মাহবুব জানান, পুলিশ মূল অভিযুক্ত সজিবসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার তদন্ত ও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে