আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ‘বাজেট বাস্তবায়ন কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয়’

‘বাজেট বাস্তবায়ন কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয়’

20170602_110048
প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :
২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট সংবিধানের সংগে সাংঘর্ষিক নয়। এমন মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ বাজেট বাস্তবায়ন কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয়।’
শুক্রবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০১৭-১৮: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় আরো বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এ বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাইলে গৃহিত পরিকল্পনার বাইরে আরো কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।’
বাজেট পর্যালোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য কিছু প্রস্তাবের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হয়নি। এতে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। পদ্মাসেতুসহ বেশকিছু মেগা প্রজেক্টে দেয়া বরাদ্দের পর্যাপ্ত ব্যবহার হয়নি। এতে বিনিয়োগ প্রভাবিত হবে।
তিনি আরো বলেন, এ বাজেটে স্বাস্থ্য খাত অনেক বেশি বঞ্চিত হয়েছে। বরাদ্দ দেয়া হলেও তা ব্যয়ে অগ্রগতি নেই। বাজেটে শিল্প খাতে নারীদের কর্মসংস্থান কমেছে। ফলে এসব নারীদের স্থান কৃষি খাতে হবার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০১৬-১৭ বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বিদায়ী অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে শিক্ষা খাত ও সেতু বিভাগের বরাদ্দ কম দেখানো হয়েছে। ২০১৬-১৭ সালে সরকারের ২২% মেগা প্রকল্পের বরাদ্দ সঠিকভাবে খরচ হয়নি। তবুও আগামী বাজেটে এসব প্রকল্পে ২০% বেশি বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক ও অন্যায়। এদিকে, পদ্মাসেতু ছাড়া অন্য কোনো প্রকল্পের বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় হয়নি। এতে বিনিয়োগ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, আগামী বাজেটের প্রায় বড় একটি অংশ বরাদ্দ ছাড়াই বিভিন্ন খাতে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন সিপিডির এই ফেলো। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বিভাগে বরাদ্দ ছাড়াই ১০৬৫ কোটি টাকা গেছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ (৬.৪%) না বাড়লেও কমেছে শিক্ষা খাতে (৬.১%)। আইসিটি ও রূপপুর পারমানুবিক প্রকল্প খাতে বরাদ্দ প্রায় ৭০% বেড়েছে, যা খুবই ভালো লক্ষণ। তবে এতে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী বাজেটের ঘাটতি কমাতে হলে ঘাটতির প্রায় এক তৃতীয়াংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হবে। উন্নয়ন খাতে (এডিপি) বরাদ্দ বাড়ানো হলেও বড় বাজেটের পরও পর্যাপ্ত অর্থ দেয়া হচ্ছে না। এডিপি বাস্তবায়নে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। অননুমোদিত প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বাজেটের ৬.৫। পিডিবির প্রায় ৯% প্রকল্পে বরাদ্দ প্রতিবারই বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু, প্রক্লপগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ চালু থাকলেও এখনো শেষ হয়নি।
এ সময় সিপিডির অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেন, বাজেটে ভ্যাট হার বৃদ্ধি করার কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, পণ্যের দাম বাড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে।
তারা আরো বলেন, কর হার কমানোর উদ্দেশ্য হলো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি। কিন্তু, বিগত বছরগুলোতে কর হার কমিয়েও বিনিয়োগ খুব একটা বৃদ্ধি করা যায়নি। তাই, এবার করহার কমানো হয়নি।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিপিডির সম্মানিত ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. ফাহমিদা খাতুন, রিসার্চ ডিরেক্টর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খানসহ ২৪ জন সিপিডি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের কর্মীবৃন্দ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে