আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > নির্বাচনী সংলাপ: ৫ প্রস্তাবে পরস্পরবিরোধী আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নির্বাচনী সংলাপ: ৫ প্রস্তাবে পরস্পরবিরোধী আওয়ামী লীগ-বিএনপি

untitled-1

আহসান হাবিব সবুজ:

২০১৮ সা‌লের সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে ক‌য়েক‌টি বিষয়ে মত পার্থক্য চলছে বহুদিন ধরে। এর ম‌ধ্যে পাঁচটি প্রধান বিষয়ে দুই দলের প্রস্তাব পরস্পরবিরোধীতা কর‌ছে।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে কি না, বর্তমান সংসদ বহাল রাখা হবে কি না, ভোট গ্রহণে ইভিএম ব্যবহার করা-না করা, সংসদীয় আসনগুলোর বিদ্যমান সীমানা বহাল রাখা-না রাখা, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা-না করা, করলে তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হবে কি না- মূলত এই পাঁচটি বিষয়ই দুই দ‌লের ম‌ধ্যে বি‌রোধীতা দেখা দি‌য়ে‌ছে।

ইসির সংলাপের জন্য যে ১১ দফা প্রস্তাবমালা আওয়ামী লীগ দি‌য়ে‌ছে, তাতে দেখা যায় এই পাঁচ বিষয়ে দুই দলের অবস্থান পুরো বিপরীত। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ইসির সা‌থে সংলাপে বিএনপি যে প্রস্তাব রা‌খে, তার ম‌ধ্যে বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত, নির্বাচনী সহায়ক সরকার, নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন, ইভিএম ব্যবহার না করা, সংসদীয় আসনের সীমানা ২০০৮ সালের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াসহ ২০ দফা দাবি জানায় তারা।

তবে আরপিও সংশোধনের ক্ষেত্রে দুই দলের মতা‌নৈক্য প্রায় কাছাকাছি র‌য়ে‌ছে। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোসহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে। সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবমালায়ও আরপিওর কিছু ধারা-উপধারা সংশোধনের বিষয় উত্থাপন ক‌রে‌ছেন তারা। প্রধান দুই দলই চায় না নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার হোক।

সেনা মোতায়েন চায় না আ’লীগ, ইভিএম ব্যবহারসহ ১১ প্রস্তাব ইসিতে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও কয়েকটি পেশাগোষ্ঠার সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সরকারি দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব‌সে‌ছি‌লো নির্বাচন কমিশন।

সংলাপে আওয়ামী লীগের প্রস্তাবকৃত ১১ দফা নি‌য়ে দ‌লের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কা‌দের ব‌লেন, আওয়ামী লী‌গের প্রস্তাব মালা কে স্বাগত জা‌নি‌য়ে ইসি ব‌লে‌ছেন এটা কোন রাজ‌নৈ‌তিক প্রস্তাবমালা নয়, এ প্রস্তাবমালা জনগ‌নের জন্য।

‌তি‌নি ব‌লেন, আওয়ামী লীগের প্রস্তাবমালায় আরপিওর বাংলা সংস্করণে কথা বলা হ‌য়ে‌ছে। নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে নির্বাচন সংক্রান্ত সংবিধানের নির্দেশনা ও বিদ্যমান আইনের নিরপেক্ষ ও কঠোর প্রয়োগের সুপারিশ করা হ‌য়ে‌ছে প্রস্তাবমালায় মাধ্য‌মে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা সংস্থার নির্বাচনে অপেশাদার ও দায়িত্বহীন আচরণের জন্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও করা হ‌য়ে‌ছে। নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারীদের নিয়োগ না দিয়ে প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগের সুপারিশ করা হ‌য়ে‌ছে।

আওয়ামী লীগ তার সুপারিশে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ওই দলের তৃণমূল নেতাকমীদের ভোটের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত প্রার্থীদের একটি চূড়ান্ত প্যানেল প্রণয়নে আরপিও করার জন্য বলা হ‌য়ে‌ছে।

সুন্দর নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন: মির্জা ফখরুল

এ ছাড়া দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সতর্কতা অবলম্বন এবং কোনোভাবেই যাতে কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তির প্রতি আনুগত্যশীল হিসেবে পরিচিত বা চিহ্নিত ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদান না করা হয় তার প্রস্তাবও করা হ‌য়ে‌ছে।

ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচনী বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যকর নির্দেশনা প্রদান, গণমাধ্যমকর্মীদের উপযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান ও তাদের দায়িত্ব কর্ম-এলাকা নির্ধারণ করে দেয়ার প্রস্তাব করা হ‌য়ে‌ছে।

পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা ছবি ও এনআইডিসহ নির্বাচনের অন্তত তিন দিন আগে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক তাদের পরিচয়পত্র নিশ্চিত হয়ে ভোটকক্ষে প্রবেশ ও নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হ‌য়ে‌ছে।

বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনমানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের মতো আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটদান প্রবর্তন করার সুপারিশ করে‌ছে আওয়ামী লীগ। ত‌বে বিএনপির প্রস্তাবমালায় এ বিষ‌য়ে না ক‌রে‌ছেন।

ক্ষমতাসীন এ দলটি সংলাপে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিরোধিতা করে। দলটির মনে করছে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি বা নির্বাচনকালীন তাদের নিয়োগের বিষয়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দাবি তুলেছে।

22537978_765863490255473_570946839_n

দেশের বিরাজমান আইন ও সাংবিধানিক নিয়মকানুনের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও আওয়ামী লীগ তার প্রস্তাবে তুলে ধরে। কিন্তু নির্বাচ‌নে সেনাবাহিনী নামা‌নোর প্রস্তাব রা‌খে বিএন‌পি। তবে ১৮৯৮ সা‌লের ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯-১৩১ ধারা মোতাবেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনীকে সাধারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের বিশেষায়িত অবস্থান বিনষ্ট হবে বলে ইসিকে জা‌নি‌য়েছে।

২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাচনের কাছাকাছি সময় এসে আবার সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে জটিলতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা থাকবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়ে‌ছে।

এ ছাড়া আরপিও সংশোধন করে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, এনআইডির টিপসই ও স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল রেখে ব্যালট পেপারের কাউন্টার ফয়েলের (মুড়ি) স্বাক্ষর ও টিপসই, ব্যালট পেপার ছিনতাই হলে প্রিজাইডিং অফিসারের করণীয় সুনির্দিষ্টকরণ, একাধিক দলের মনোনীত প্রার্থীকে কোনো দলের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া যাবে না মর্মে বিধান নির্ধারণ, জামানত বাড়ানো, নির্বাচনী মামলা নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দেওয়া, আরপিও এর ৪৪ এ এ এর উপানুচ্ছেদ (২) এর ‘if he is an income tax assesse’ বিলোপ, ৭৩ এর (২বি) এ bribery শব্দের পর as defined in Article 75, personation শব্দের পর as defined in Article 76` ও undue influence শব্দের পর as defined in Articles 77 যুক্ত করা; ৭৩, ৭৪, ৭৮, ৮১ এ উল্লেখিত সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের স্থলে ৫ বছর ও সর্বনিম্ন ১ বছর করা, ৯১ (বি) ও (ই) অনুচ্ছেদ বিলোপ, কমিশনকে কেউ সহযোগিতা না করলে তার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান যুক্তকরণ, বিচারিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে সুপ্রিম কোর্টের পূর্বানুমতি গ্রহণে ৯১এ ধারা সংশোধনসহ আরপিওর বেশ কিছু সংশোধনীর সুপারিশ করে ক্ষমতাসীন দলটি।

এ এইচ/এ আর/এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে