আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > টাঙ্গাইলে ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা

টাঙ্গাইলে ধর্ষণের মূল্য দেড় লাখ টাকা

tangail

প্রতিচ্ছবি টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায় জেএসসি পরীক্ষার্থীকে (১৩) তিন সন্তানের জনক নাছির উদ্দিন একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্পর্কে এরা একে ওপরের নানা-নাতনী।

ধর্ষিতা মেয়েটি তিন মাসের অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ায় পেটের ভ্রুন নষ্ট করতে ও ধর্ষণের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় মাতাব্বর ও যুবলীগ নেতা মিলে দেড় লাখ টাকায় বিষয়টির মীমাংসায় বাধ্য করেছেন।

ধর্ষক নাছির উদ্দিন উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের মৃত কুমুর উদ্দিন হাজীর ছেলে। মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী।

ধর্ষিতা মেয়েটি ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিন সন্তানের জনক বখাটে নাছির উদ্দিন (৪০) সম্পর্কে ওই স্কুল ছাত্রীর নানা । এই সুবাদে মেয়েটির বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত ছিল নাছিরের। নানা বলেই ডাকতো মেয়েটি। গত রমজান মাসের প্রথম দিকে মেয়েটির বাবা মা মেয়েটিকে বাড়িতে রেখে এক আত্মীয়র বাড়ি যায়। বাড়ি ফাঁকা পেয়ে কথিত নানা নাছির উদ্দিন ওই স্কুল ছাত্রীর হাত মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি ও পরিবারের ক্ষতি করবে বলে শাসিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বখাটে নাছির ওই মেয়েটিকে আরও একাধিকবার ধর্ষণ করে।  অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে মেয়েটি তার বাবা-মার কাছে সব ঘটনা খুলে বলে। পরে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ধর্ষিতার পরিবার মামলা করতে চাইলে বখাটে নাছির তার ভায়রা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এমএ ছবুরের সহায়তায় স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে ওই অসহায় পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় মীমাংসায় রাজি করান।

মেয়েটির মা প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘আমরা গরীব বলে বিচার পেলাম না। ছবুর নেতা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মীমাংসায় রাজি করিয়েছেন। অন্তসত্ত্বা মেয়েটি তারা জোরপূর্বক বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ খাওয়েছে। আমার মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে আমি তার বিচার চাই।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি মেয়েটি অসুস্থ্য।

সখীপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এম এ ছবুর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি একা নই স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়েই বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত নাছির উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্থানীয় মাতাব্বরদের নিয়ে মীমাংসা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।  সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জুলহাস গায়েন / আর এইচ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে