আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা

ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা

ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা [১]

ইদ্রিস আলম:

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে ১২ টাকা হালি ডিম বিক্রি কর্মসূচি বন্ধ হয়ে গেছে। হুলস্থুল-বিক্ষোভ আর গণ্ডগোলের মাঝে অনেকটা শুরুর আগেই শেষ হওয়ার মতো অবস্থা। ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও হতাশ হয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে ডিম কিনতে আসা মানুষদের।

ডিম মেলা প্রাঙ্গনের পাশে ভোর থেকেই চায়ের দোকান খুলে চা বিক্রি করছিলেন চা দোকানি মোতালেব। তিনি প্রতিচ্ছবিকে বলেন, ‘শুরুর দিকে কেউ কেউ ডিম পাইলেও, পরে অনেকরেই খালি হাতে এদিক দিয়া যাইতে দেখলাম। মাঝে তো কয়েকবার পুলিশ ধাওয়া দিল দেখলাম।’

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে বিশেষ ছাড়ে ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। কিন্তু ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপ এবং তাড়াহুড়োর কারণে বেশ কিছু ডিম ভেঙে যায়। ফলে, প্রতি পিস ৩ টাকা দরে ডিম আর বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা [২]

ডিম নিতে আসা ইন্দিরা রোডের ব্র্যাক কর্মকর্তা সুশীল দেবনাথ ক্ষোভের সাথে এই প্রতিবেদককে জানান, সস্তায় ডিম পাবো বলে এসেছিলাম। এমন হবে ভাবিনি। দুই তিন ঘন্টা দাঁড়িয়ে ১০টা ডিম নেওয়ার কোনও মানে নাই। তাই চলে যাচ্ছি।

উত্তেজিত ক্রেতাদের সরিয়ে দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। মাঝে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে ক্রেতাদের ওপর লাঠিচার্জও করে পুলিশ। ফলে কম দামে ডিম না পাওয়ার দুঃখ-বেদনা নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফেরে হাজারো মানুষ।

সুদূর নারায়নগঞ্জ থেকে আসা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমাদের একরকম দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এসে অপমান করা হয়েছে। আবার পুলিশ আমাদের উপর লাঠিচার্জও করেছে।

ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা [৩]

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ সরাসরি মন্তব্য না করলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আমাদের লক্ষ্য ছিল সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ডিম বিক্রি করার। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি মানুষের হুরোহুরিতে বেশ কিছু ডিম ভেঙে যায়। আর ডিম কিনতে যত মানুষ এসেছে আমাদের ততটা প্রস্তুটি ছিল না। তাই প্রাথমিকভাবে ডিম বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এমন সুলভমূল্যে ডিম বিক্রি করা হবে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা সাইফুল আলম শোভন বলেন, উদ্যোগটি ভাল ছিলো। কিন্তু এ অবস্থা হবে ভাবিনি। আরও গোছানো হতে পারতো। তাছাড়া এখানে যারা এসেছেন তারা নিত্ত প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে কতটা চাপে আছেন তা বোঝাই যাচ্ছে।

শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও একযোগে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব ডিম দিবস। সকালে ডিম মেলা শুরুর আগেই ডিম কিনতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যান ক্রেতারা। সকাল ৭টা থেকে ডিম কেনার লাইনে পুরুষদের সঙ্গে নারীরাও ছিলেন।

ডিম নিয়ে হুলুস্থুল, খালি হাতে ফিরলেন ক্রেতারা [৪]

কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন থেকে বিজয় স্মরণি মোড় পর্যন্ত পুরুষদের ডাবল লাইন এবং ফার্মগেট মোড় থেকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের পুলিশ বক্স পর্যন্ত নারী-পুরুষের লম্বা লাইন দেখা গেছে। এ ছাড়া কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের ভেতরে পা রাখার মতো পরিস্থিতি ছিল না।

বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলায় ১২ টাকায় এক হালি ডিম কিনতে পারার কথা ছিল রাজধানীবাসীর। সে হিসেবে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ার কথা ছিল ৩ টাকা। তবে সময় মাত্র ৩ ঘণ্টা। অর্থাৎ সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১টা- এই ৩ ঘণ্টা মেলা চলবে। একজন ক্রেতা ৯০টি পর্যন্ত ডিম কিনতে পারবেন। এ জন্য মজুদ রাখা হয়েছিল ৫০ হাজার ডিম।

তবে অতিরিক্ত ভিড় এবং হুরোহুরির কারণে শেষ পর্যন্ত ডিম না পেয়েই ফিরে যেতে হয়েছে মানুষকে।

ইএ/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে