আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রাজনীতি > নাগরিকরা ভোগান্তির শেষ পর্যায়ে: গয়েশ্বর

নাগরিকরা ভোগান্তির শেষ পর্যায়ে: গয়েশ্বর

নাগরিকরা ভোগান্তির শেষ পর্যায়ে: গয়েশ্বর

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

দেশের নাগরিকরা ভোগান্তির শেষ প্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, আজকের গোটা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে আমার মনে হয় সবকিছু শেষের আগে অনেক কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। দেশের নাগরিকরা ভোগান্তির শেষ প্রান্তে এবং যেসব উপসর্গের মাধ্যমে আগেকার সরকারের পতন ঘটেছে সেই সব উপসর্গ গুলোর মধ্য দিয়েই আমরা যাচ্ছি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সুশাসন ও নাগরিক অধিকার শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন।
সরকার আদালত ব্যবস্থাকে মুজিবীকরণ করতে চায় মন্তব্য করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গত দুই তারিখে যা ঘটে গেলে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ছুটিতে গেলেন।এর আগেও কিন্তু তিনি এক মাসের ছুটিতে গিয়েছিলেন কিন্তু তখন তার ছুটি নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে কোনো ধরনের কথা ওঠেনি। কারণ সেই ছুটি টা ছিলো যথারীতি এবং তার নিজের ইচ্ছায়। সেই ছুটির দরখাস্ত রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করছে কি করছে না সেটা কিন্তুপত্র -পত্রিকায় আসেনি। কারণ এটা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নিজের ছুটি তিনি নিজেই নেন এবং বঙ্গ ভবনের রেজিস্টার কর্তৃক অনুমোধিত হয়। ছুটিকালিন সময়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন এবং অনুমোদন করেন। কিন্তু এবার যখন তিনি ছুটি নিলেন তার ছুটির বিষয়টি আইন মন্ত্রী ও এটর্নী জেনারেল জানালেন কিন্তু এটাতো তাদের কাজ নয়।
যে প্রক্রিয়ায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাকে ছুটি দেয়া হয়েছে তার মাধ্যমে সরকার গোটা বিচার ব্যবস্থার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে তাহলে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল একটি সরকার যদি থাকে এবং সে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবিধানকে যদি সঠিকভাবে অনুস্বরণ করা হয় এবং আইনের শাসন যদি প্রতিষ্ঠিত করা হয় তাহলে সেখানে সুশাসন থাকে আর এ আইনের শাসনটাকে নিশ্চিত করে স্বাধীন বিচার বিভাগ। স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং প্রশাসন একে অপরের পরিপূরক হিসেবে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, কিন্তু যেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকেনা, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আইনের শাসনের তোয়াক্কা করেনা।এ জন্যেই খুন, গুম আর জঙ্গিবাদের নাটকের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আদালতের পাশ দিয়ে আসার সময় লক্ষ করলাম রাস্তার দুইপাশে বড় বড় ফেস্টুন টানানো আর সেখানে লেখা আছে মাদার অব হিউম্যানেটি।মনে হল যারা এই শব্দটা যার বেলায় অবতারনা করেছেন, তারা জনগণের সাথে মসকরা করেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দেশি এবং আন্তর্জাতিক প্রতি বছর রির্পোট ছাপে যে বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই। আর সেই দেশ অন্যায় ভাবে জনগণের সমর্থন ছাড়া পেশি শক্তির বলে প্রশাসনকে দলীয় ক্যাডার হিসেবে কাজে লাগিয়ে যারা ক্ষমতায় আছেন সেই ক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তিদের যখন মাদার অব হিউম্যানেটি বলে সেটা জনগণের সাথে মসকরা, ঠাট্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
শেখ হাসিনা নোবেল পাওয়ার যোগ্য! জানিয়ে তিনি বলেন, নোবেল তো কপালে জুটলোইনা। তবে একটা নোবেল তার পাওয়া উচিত ছিলো। অর্থনীতিতে না হোক, বিজ্ঞানে না হোক, শান্তিতে না হোক গুমের জন্য হলেও তার একটা নোবেল প্রাপ্য ছিলো। আর কিছু না হোক ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অভূতপূর্ব নির্বাচনের জন্য তার একটা নোবেল পাওয়ার দরকার ছিলো। আমার মনে হয় নোবেল কমিটিতে যারা ছিলেন তার বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেন নি।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব একেএম মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ, আলহাজ্ব নাজিমুদ্দিন মাস্টার প্রমুখ।

আই এ / এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে