আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > পিরলোর পাকাপাকি অবসর

পিরলোর পাকাপাকি অবসর

150706162348-pirlo-super-169

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস ডেস্ক:

আসছে ডিসেম্বরে মেজর লিগ সকারের ক্লাব নিউইয়র্ক সিটি এফসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আন্দ্রে পিরলোর। আর এর মধ্য দিয়েই ইতালির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানাবেন। এরপরই পাকাপাকিভাবে ‘সাবেক’দের দলে নাম লেখাবেন ২০০৬ সালে ইতালির বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক।

ক্যারিয়ারে অনেক কয়টি দলের হয়েই খেলেছেন পিরলো। আঁটসাঁট ও পেশিশক্তিময় ফুটবলের যুগেও সৃষ্টিশীল ফুটবল খেলে জয় করেছেন ভক্তদের হৃদয়। ক্যারিয়ারের শুরুটা করেন নিজ শহরের ক্লাব ব্রেসিয়াতে। ১৯৯৭ সালে ক্লাবটিকে ‘সিরি বি’ চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। সে বছরই তাঁকে কিনে নেয় ইন্টার মিলান। অথচ গতি কম থাকায় বারবারই ধারে খেলানো হয় তাঁকে। মাত্র ২২ ম্যাচ খেলিয়েই ইন্টার তাঁকে বিক্রি করে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানের কাছে।

কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন পিরলো। মিলান রক্ষণের সামনে পিরলোকে খেলা বানানোর জায়গা করে দেন আনচেলত্তি। এখানেই চমক দেখান তিনি, পরিণত হন বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডারে। ১০ মৌসুমের কিছু বেশি সময় মিলানে থেকে তিনি জিতেছেন দুটি করে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ‘সিরি আ’ শিরোপা। একবার করে জিতেছেন ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, সুপারকোপা ইতালিয়ানা ও কোপা ইতালিয়া। মিলানে থাকা অবস্থায়ই ইতালির হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ জেতেন পিরলো।

২০১১ সালে ফ্রি ট্রান্সফারের সুযোগে পিরলোকে দলে ভেড়ায় জুভেন্টাস। ২০০৩ থেকে কোনো শিরোপা না জেতা তুরিনের ‘ওল্ড লেডি’দের টানা চারটি ‘সিরি আ’ এনে দেন তিনি। এর মাঝে দুটি সুপারকোপা ও একটি কোপা ইতালিয়াও জেতেন পিরলো জুভদের হয়ে। ২০১২ সালে ইতালিকে নিয়ে যান ইউরোর ফাইনালে, কিন্তু হারতে হয় স্পেনের কাছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠেছিল জুভেন্টাস। কিন্তু ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে যায় কন্তে-বাহিনী। প্রায় ২০ মৌসুম ইতালিতে খেলে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যান পিরলো, তাঁর আগেই অবশ্য বিদায় বলে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলকে।

সাবেক হয়ে যাওয়ার বার্তাটা পিরলো নিজেই দিয়েছেন লা গেজেত্তো দেল্লা স্পোর্তোকে, ‘এটা না বুঝতে পারার কারণ নেই। যেকোনো খেলোয়াড়ই বুঝতে পারে—সময় হয়ে গেছে। এই সময়টায় দেখবেন প্রতিদিনই শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনুশীলনটা চাইলেও করতে পারছেন না। আমারও এমনই হচ্ছে, ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তো আর খেলা সম্ভব নয়।’

গুজব আছে, অবসরের পর আন্তোনিও কন্তের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করবেন পিরলো। ব্যাপারটা অবশ্য সরাসরি স্বীকার করেননি তিনি, ‘কন্তের সঙ্গে কাজ করব? হ্যাঁ, তারা অনেক কিছুই বলে। আমারও কিছু আইডিয়া আছে। আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দিন।’

কোচ তৈরিতে ইতালির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। পিরলোও হয়তো সেই পথেই যাবেন।

সূত্র: গোলডটকম

এম এম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে