আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > কোরিয় উপদ্বীপে যুদ্ধের দামামা

কোরিয় উপদ্বীপে যুদ্ধের দামামা

main-kim-jong-un-missilesকোরিয় উপদ্বীপে বাজছে যুদ্ধের দামামা। একদিকে চলছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পারমাণু অস্ত্রের মহড়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক মহড়া।

পাল্টাপাল্টি হুমকি আর যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েনের মধ্য দিয়ে পুরো উপদ্বীপে উত্তেজনার পারদ এখন উর্ধ্বমুখি। একমাত্র চীনই যুদ্ধের উত্তাপ থামাতে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও মার্কিন-উত্তর কোরিয়া দ্বন্দ্বে বরাবরই উত্তরের দিকেই থেকেছে চিন।

উত্তর কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বৈরিতা পঞ্চাশ দশকের পুরনো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার শুরু করে দেশটি। আর এই প্রতিরক্ষা নীতিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তরুণ উত্তরসূরি দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কিম জং উন।

আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কাই করছেন না কিম। গেল দুই বছর ধরে দফায় দফায় হাইড্রোজেন বোমা, ব্যালেস্টিক মিসাইলসহ অস্ত্রের মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের কাছে জানান দিচ্ছেন আক্রান্ত হলে ছেড়ে কথা বলার পাত্র তিনি নন।

পিয়ংইয়ং-এর সমরাস্ত্রর উন্নয়নে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমে শুরু হয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ। এতে কাজ না হলে সরাসরি যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো কথাবার্তা ছাড়াই সরাসরি কোরিয় উপদ্বীপে পাঠিয়ে দেন যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী- ইউএসএস কার্ল ভিনসেন স্ট্রাইক গ্রুপ। হাজির হয় পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী সাবমেরিন- ইউএসএস মিশিগান। বাড়তে থাকে উত্তেজনা। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রণতরী পাঠানোর বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয় হওয়ার কৌশল।

nbc-fires-donald-trump-after-he-calls-mexicans-rapists-and-drug-runners

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়াকে আগ্রাসন হিসেবেই মনে করছে উত্তর কোরিয়া। জবাব দিতেও প্রস্তুত তারা। সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেখিয়ে দিয়েছে যুদ্ধ সক্ষমতাও।

সর্বশেষ ২৯ এপ্রিল কেএন-১৭ ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করে উত্তেজনা তীব্র করে। যদিও সে পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ পরীক্ষার পর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

উত্তর কোরিয়া এখনই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে পরমাণু হামলা চালাতে সক্ষম। আর যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূ-খন্ডে হামলার সক্ষমতা অর্জনও সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন টিলারসন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি।

শেষ খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সমর্থন দিচ্ছে জাপান। বিতর্কিত সামরিক আইন পাশের পর যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা দিতে প্রথমবারের কোরিয় উপসাগরে ইজুমো নামে যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে দেশটি। ২৪৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি একসঙ্গে নয়টি হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী কার্ল ভিনসেনকে জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং পাহারা দিয়ে কোরিয় উপদ্বীপে গন্তব্যে নিয়ে আসবে জাপানি জাহাজটি।

us_submarine

এ পরিস্থিতির মধ্যে একমাত্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে চীন। যুদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমাধান আসবে না বলে মনে করছে দেশটি। কূটনৈতিক পথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং। যদিও প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি বিমানবাহী রণতরী সাগরে ভাসিয়ে অনেকটা হুমকির সুরেই দু’পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

এখন পর্যন্ত চার বার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পঞ্চম পরীক্ষা চালানোর অপেক্ষা।

তবে শেষ পর্যন্ত কি থামবে যুদ্ধের দামামা? নাকি বিশ্বকে আরো একটি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখতে হবে?

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে