আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > চট্টগ্রাম > জীবন বাজি রেখে উত্তাল মেঘনা পাড়ি!

জীবন বাজি রেখে উত্তাল মেঘনা পাড়ি!

জীবন বাজি রেখে উত্তাল মেঘনা পাড়ি!

প্রতিচ্ছবি চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের ২৫ টি চরের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছেন ।চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনা নদী এলাকায় গড়ে উঠা চরে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত নৌকা। যাতে নেই প্রয়োজনীয় বয়া ও লাইফজেকেট। এতে মাঝে মাঝেই ঘটে দূর্ঘটনা।

জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তদরকি ও জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার নির্দেশ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বলছে সর্তক করা সত্ত্বেও তারা মানছে না ট্রলার মালিকরা।

স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ নানা বয়সের হাজারো মানুষ প্রতিদিন জেলা শহরের পুরানবাজার, হাইমচর ও মতলব উত্তরের মুল ভূখন্ড থেকে মেঘনা পাড়ি দেন। এক বছর আগে নদী পার হতে গিয়ে চাঁদপুরের হাইমচরে ট্রলার ডুবিতে প্রাণ হারায় শিশুসহ ৯ জন। তাই নদী পার হতে গিয়ে ফের দুর্ঘটনার ভয় তাদের মাঝে সব সময়।

screenshot_6

নদী পাড়ি দেয়া যাত্রীরা জানালেন তাদের দুর্ভোগের কথা। মেঘনা নদী পাড়ি দেওয়া মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে সরকারি সহায়তার দাবি জানালেন শিক্ষকসহ চরাঞ্চলের মানুষ।

মতলবের আমিরাবাদ এলাকার শ্রী রায়ের চর, পেয়ার চর, উমদে চরের বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। স্কুল ছাত্রী রেহানা জানান, বর্ষায় নদীতে স্রোত বেশী থাকে, জীবনের প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই চলতে হয়।

চরের বাসিন্দা রফিক ছৈয়াল জানান, চরের মানুষ সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। তবে ট্রলারে যেন অতিরিক্ত যাত্রী না নিতে পারে এজন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ তদারকি দাবি জানান তিনি।

screenshot_7

শহরের পুরানবাজারের দুধ পট্টি এলাকার ট্রলার মালিক সেলু সর্দার জানান, ট্রলার চালিয়ে তেল খরচ, নৌকা মেরামত আর আমাদের সংসার খরচ চলে। আমরা নিজেরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার চালাই। যাত্রীদের জন্যে আমরা আর কী করতে পারি?

ব্যক্তি উদ্যোগে নদী পারাপারের সময় লাইফজেকেট কিনে ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, গত বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে চরবাসীকে ৬শ বয়া দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

বিআইডাব্লিউটিএ, চাঁদপুর এর উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কয়েক দফায় এসব অবৈধ ট্রলারের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সর্বোপরি সবাইকে সতর্কতার সাথে ট্রলারে চলাচলের নির্দেশ দেন।

চাঁদপুর সদর, হাইমচর ও মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর পশ্চিমে ২৫ চরের মধ্যে বর্তমানে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

রিয়াদ ফেরদৌস/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে