আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খুলনা > নিরক্ষরতা মুক্ত হবে যশোরের ৭২ হাজার মানুষ

নিরক্ষরতা মুক্ত হবে যশোরের ৭২ হাজার মানুষ

নিরক্ষরতা মুক্ত হবে যশোরের ৭২ হাজার মানুষ

প্রতিচ্ছবি যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের চার উপজেলায় নিরক্ষরদের লেখাপড়ার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে ১ হাজার ২০০টি শিক্ষা কেন্দ্র। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, মণিরামপুর ও শার্শায় নিরক্ষরদের জন্য এ শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলছে। যেখানে ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৭২ হাজার নিরক্ষর মানুষকে ৬ মাস লেখাপড়া শেখানো হবে।

এ কাজে ৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প’র মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মতে, নিরক্ষরদের পাশাপাশি অক্ষর চেনেন কিন্তু শব্দ ও বাক্য গঠন করতে অক্ষম ব্যক্তিদের এসব কেন্দ্রে লেখাপড়া শেখানো হবে। ‘চেতনা’ নামের একটি বই পাঠদানের মধ্য দিয়ে লিখতে পড়তে ও হিসাব নিকাশ করতে শিখবেন নিরক্ষর নারী-পুরুষরা। সেই সাথে পরিচিত হবেন তথ্য প্রযুক্তির সাথে। পাশাপাশি অর্জন করবেন বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা।

এখান থেকে লেখাপড়া শেখার পর দেশ বিদেশের শ্রমবাজারে কাজের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তাদের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, প্রতিটি উপজেলায় ৩০০ টি করে শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হবে। যেখানে দুইটি শিফটে ৬০ জন করে নারী পুরুষ পৃথকভাবে লেখাপড়া শিখবেন। এভাবে একেকটি উপজেলা থেকে ১৮ হাজার নারী-পুরুষ নিরক্ষরতা মুক্ত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাড়ির উঠোন, গাছের নিচে ও ঘরভাড়া নিয়ে এসব শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে যশোরের দুইটি উপজেলা বাঘারপাড়া ও ঝিকরগাছায় এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বর্তমানে এ দুটি উপজেলায় নিরক্ষর জরিপ কার্যক্রম চলছে। উপজেলা দুটিতে একজন করে প্রোগ্রাম অফিসার ও অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলা দুটিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বাঘারপাড়ায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থা ও ঝিকরগাছায় উলশী সৃজনী সংঘ। সংস্থা দুটি বর্তমানে সেখানে নিরক্ষর জরিপের কাজ করছে। গত আগস্ট মাসে জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জরিপ শেষে নিরক্ষর দূরীকরণে স্থাপিত শিক্ষা কেন্দ্রে পাঠদান করবেন তাদের নিয়োজিত শিক্ষকরা।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো যশোরের সহকারী পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে শিক্ষা কেন্দ্রগুলোয় পাঠদান শুরু হবে।

এছাড়া অচিরেই অপর দুটি উপজেলা মণিরামপুর ও শার্শায় এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মণিরামপুরে দীপশিখা ও শার্শায় অগ্রণী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে দুটি বেসরকারি সংস্থা মনোনীত হয়েছে।

জানা যায়, ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী- পুরুষদের মৌলিক স্বাক্ষরতা ও জীবন দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার এ প্রকল্প গ্রহণ করে।

দেশের ২৫০টি উপজেলায় ৭৫ হাজারটি শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে তুলে ৪৫ লাখ নিরক্ষর মানুষকে লেখাপড়া শেখানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩৭টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব উপজেলায় প্রোগ্রাম অফিসার ও অফিস সহায়ক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে ৪৫২ কোটি টাকার এ মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো যশোরের সহকারী পরিচালক বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, এ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নিরক্ষরদের লেখাপড়া শেখানো হবে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। যাতে দেশ বিদেশের শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ করে নিতে পারেন।

সাজেদ রহমান/এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে