আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী: মায়া

রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনী: মায়া

176045_1

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ত্রাণ বণ্টনে সরকার সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া বীর বিক্রম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর ২৫ আগস্ট থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ২৪ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে। তাদের মধ্যে গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত নিবন্ধন করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৭৫ জনকে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা দেওয়া হচ্ছে।

ত্রাণমন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের কেউ না খেয়ে মরবে না। দেশে না ফেরা তাদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বণ্টনের জন্য সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, তাঁরা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ত্রাণ বণ্টনের কাজে সহযোগিতা করবেন’ তিনি জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমানে ১৪টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ টন আটা সরকারের হাতে এসেছে বলেো জানান মায়া।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলেো জানান মন্ত্রী।

মায়া বলেন, “ইউএনএইচসিআর খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয়সহ সার্বিক সব ধরনের সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ডব্লিউএফপি আগামী চার মাস চার লাখ পরিবারের খাবার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।” বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন ১৪ হাজার ইউনিট খাবার পানি সরবারহ করছে। এছাড়া ১০০টি টিউবওয়েল স্থাপন ও ৫০০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

মায়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে পুলিশ ও বিজিবি সহায়তা দিচ্ছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে ৮ ঘণ্টায় ৬৪ হাজার লিটার খাবার পানি সরবারহ করতে পারে এমন চারটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কাজ শুরু করেছে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

মন্ত্রী বলেন, কুতুপালং এলাকায় প্রায় দুই হাজার একর জায়গায় ১৪টি শেড নির্মাণের কাজ চলছে, ত্রাণ বিতরণ সুষ্ঠু করতে ১৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বিক্ষিপ্তভবে কেউ যাতে ত্রাণ বিতরণ না করে তার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের সমর্থন দিয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডি ডি আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে