আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অপরাধ > ঘের ব্যবসায়ীদের কবলে মধু কবির সেই ‘কপোতাক্ষ নদ’

ঘের ব্যবসায়ীদের কবলে মধু কবির সেই ‘কপোতাক্ষ নদ’

kopotakko-1

সাজেদ রহমান, যশোর প্রতিনিধি:

অনেক নদ তিনি দেখেছেন বহুদেশে-তবুও ‘কপোতাক্ষ’ তাঁর কাছে অনন্য অসাধারণ। ফ্রান্সের ভার্সাই-এ বসে তাই বাংলা সাহিত্যের অমর বরপুত্র মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন ‘সতত, হে নদ, তুমি পড় মোর মনে/সতত তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে।’

যে নদীর ধ্বনি তিনি শুনতে পেতেন সুদুর প্রবাসে, সে নদীই আজ ব্যার্থ ঘরের পাশের মানুষের অন্তরের তৃষ্ণা মেটাতে। আজ যদি কবি ফিরে আসতেন কপোতাক্ষ কুলে। তাঁর নিজ গ্রাম সাগরদাড়িতে? নদের বর্তমান অবস্থা দেখে ক্ষোভে, দুঃখে, বেদনায় মৌন হয়ে যেতেন নিশ্চয়।

কবির দেখা সেই কপোতাক্ষ আজ আর নেই। বর্তমানে প্রভাবশালীরা কপোতাক্ষ নদ দখলে নিয়ে গিলে ফেলছেন। নদের বুক চিরে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু আবার দখল করে তৈরি করা হয়েছে মাছের ঘের। এরফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।
kopotakko-2
সরেজমিন খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, কপোতাক্ষ এলাকার এক শ্রেণির প্রভাবশালী কপোতাক্ষের মধ্যে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কপোতাক্ষকে বিলীন করার উপক্রম করে তুলেছেন। এরফলে ¯্রােত নেই সেখানে।

সরেজমিনে কপোতাক্ষ পাড়ের মনিরামপুরের কাশিমপুর গ্রামে গেলে চোখে পড়ে বালু উত্তোলণের চিত্র। যা রীতিমতো চমকে উঠার মত। ওই এলাকার কথিত প্রভাবশালী সাহিদুর রহমান, মিঠুসহ একটি একদল কপোতাক্ষ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রলিতে করে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে এই বালু।

এলাকার জনসাধারন কিছু বলতে গেলেই দেয়া হয় হুমকি-ধামকি। যেকারনে এক প্রকার বাঁধাহীনভাবে মাসের পর মাস কপোতাক্ষের বুক চিরে বালু উত্তোলন করে চলেছে প্রভাবশালী এই চক্রটি। শুকুর আলী নামে জনৈক এক ব্যক্তি বলেন, যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এতে দু’পাড়ের ভুমি ধ্বসে ভরাট হচ্ছে কপোতাক্ষের মূলধারা। তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু বলতে গেলেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী দিয়ে মারপিটের হুমকি দেয়া হয়।

বালু উত্তোলনকারি সাহিদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তার নিজের জমি থেকে। তার সাথে মিঠুও আছে। জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু আনছার সরদার জানান, তাদের বার বার নিষেধ করা সত্বেও কোন কর্ণপাত করছে না। খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, সাহিদুর ও মিঠু গং এ স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব ব্যাপারে প্রশাসন জানলেও রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ এলাকার জনসাধারনের।

অভিযোগ রয়েছে রোহিতা ইউনিয়নের তহশীলদার কবির হোসেন বালু উত্তোলনকারিদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে আড়াল করে রেখেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তহশীলদার কবির। মনিরামপুর উপজেলার মধ্যে কপোতাক্ষ নদের জায়গা দখল করে বালু উত্তোলন ছাড়াও  অন্তত: অর্ধশতাধিক মাছের ঘের করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। যার ফলে পানি নিস্কাশনের সব পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। যেকারনে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই উপজেলাব্যাপী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছে।

উজ্জ্বলপুর গ্রামের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, কপোতাক্ষ নদ দখল করে মাছের ঘের করে নিয়েছেন ডুমুরখালি অঞ্চলের একাব্বর, উজ্জ্বলপুরের জামির উদ্দীন, মোসলেম, শামছুর, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কার্ত্তিক, পারবাজার গ্রামের ইসলাম, পাঁচপোতা গ্রামের রাজ্জাক, এনায়েত মোড়লসহ কতিপয় প্রভাবশালী। যার ফলে কপোতাক্ষ পাড়ের জনসাধারন প্রতি বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকায় এখন ভিটে ছাড়ার উপক্রম হয়েছে।

এছাড়াও কপোতাক্ষ নদ কাগজে-কলমে ছাড়া বাস্তবতার বাইরে চলে যেতে বসেছে। এসব বিষয়ে কথা হয় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) লিংকন বিশ্বাসের সাথে। তিনি জানান, এ কর্মস্থলে যোগদানের পর যত অভিযোগ পাওয়া গেছে তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে