আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > চাল নিয়ে চালবাজি, উভয় সঙ্কটে সরকার

চাল নিয়ে চালবাজি, উভয় সঙ্কটে সরকার

চাল নিয়ে চালবাজি, উভয় সঙ্কটে সরকার

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

সাধারণ মধ্যবিত্তদের হাত থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে চালের বাজার। আমদানি শুল্ক ২৮ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, বিদেশ থেকে জিটুজি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে আমদানির পরও হাতের মুঠোয় রাখা যাচ্ছে না চালের বাজার। উল্টো বেড়েই চলেছে দাম। মোটা চাল ৫৫ টাকা আর চিকন চালের কেজি ঠেকেছে ৭৫ টাকায়।

চলতি বছরের শুরু থেকেই চালের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। মাঝে আমন ধান ওঠার সময় এবং আমদানির কারণে চালের দাম নামমাত্র কমলেও এখন পরিকল্পিতভাবে আবার বাড়তে শুরু করেছে দাম। এখন একেবারে চালকল বা খামার পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি-খুচরা সব পর্যায়েই বাড়ছে চালের দাম।

গত ৮ মাস ধরেই চালের বাজারে চলছে দাম বৃদ্ধির লাগামহীন নৈরাজ্য। এর প্রভাবে গত ৮ মাসে চালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ টাকার উপরে। যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। বিশেষ করে বাড়তি টাকায় চাল কিনতে গিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

চাল নিয়ে চালবাজি, উভয় সঙ্কটে সরকার

চালের এ লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি সিন্ডিকেট দায়ী। কারসাজি করে চক্রটি দাম বাড়িয়েছে। গুদামে অতিরিক্ত চাল মজুদের অভিযোগে সিন্ডিকেটের হোতা বাংলাদেশ অটোরাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সিন্ডিকেট করে চাল সংকটের গুজব ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে। তাদের গুদামে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকার চালের দাম জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে বদ্ধপরিকর। তাদের গুদামে অভিযান চালান, গ্রেফতার করুন। যেখানে চালের গুদাম আছে সেখানে অভিযান চালাতে হবে। অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া মাত্র মিল মালিকদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করতে হবে। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ।’

মন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তে চাল ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠছেন। তারা বলছেন, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে তারা চাল আমদানি কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। এমন পরিস্থিতিতে উভয় সংকটে সরকার।

বাংলাদেশ রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি কাওসার আলম খান জানান, চালের দাম বাড়ায় তারাও ভালো নেই। তবে গুদামে অভিযান ও ধরপাকড়ের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমদানি মূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

photo-0-1475637258650-crop-1475637271542ccc

চাল ব্যবসায়ীরা জানান, ‘দাম বাড়ার নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াচ্ছে চালকল মালিকরা। কারণ এ মুহূর্তে কৃষকের কাছে ধান নেই। কৃষকের ধান বিক্রির পর তা ফড়িয়াদের মাধ্যমে অনেক আগেই চলে গেছে মিল মালিকদের হাতে। তারা যেনতেন দামে ধান কিনে তা মজুদ করে রাখছেন নিজস্ব গুদামে। এভাবে ধানের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়ানো হচ্ছে ধানের দাম। অন্যদিকে ধানের দাম বাড়ানোর পর তারা দ্বিতীয় দফা চালের দামও বাড়িয়েছেন। এভাবে মিল পর্যায়ে দাম বাড়ার পর পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে আসতে যত হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়ে। ফলে ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানোর আগে তাকে সর্বোচ্চ দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।’

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘লাগাতার চালের দাম বাড়ছে। যে হারে দাম বাড়ছে এতে বুঝতে হবে নিশ্চয় এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে। এ কারসাজি রোখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকার সে কাজটি করছে না বা করতে পারছে না। ফলে ভুগতে হচ্ছে দেশের প্রতিটি ভোক্তাকে।’

তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে চাল আমদানি হচ্ছে। ওই চাল কী সবই বাজারে আসছে। যদি এসেই থাকে তাহলে সরবরাহ বেশি বেশি এবং দাম কমবে। সেটা তো হচ্ছে না। আমরা দেখছি উল্টো দাম বাড়ছে। এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। কোথায় সংকট। সংকটের পেছনে কারও কলকাঠি থাকলে তা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সরকারি গুদামে চালের মজুদ রয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টন। গত বছরের এ দিনে মজুদ ছিল ৭ লাখ ২১ হাজার টন। হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা, রোগের কারণে বোরোর ফলন কম হওয়া এবং ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণের ফলে এবার চালের মজুদ তলানিতে ঠেকে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালের মজুদ দেড় লাখ টনে নেমে আসে। আর এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের কারসাজিতে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫০ টাকায় ওঠে।

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে