আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজানো সেই রাজা এখন হাসপাতালে

স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজানো সেই রাজা এখন হাসপাতালে

২৮ মে, ২০১৭

স্টেডিয়ামে বাঁশি বাজানো সেই রাজা এখন হাসপাতালে

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

গায়ে রাজার পোশাক, হাতে লম্বা বাঁশি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা, একুশে বইমেলা কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজার ভঙ্গিতে বাঁশি বাজিয়ে সবাইকে আনন্দ দেওয়া সেই বংশীবাদক রাজা ভালো নেই।

গত ৭ দিন ধরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডি-ব্লকের ৫ম তলার লিভার বিভাগে পুরুষ ওর্য়াডের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি। ডাক্তারা জানান, তার লিভারে বড় একটি ফোঁড়া ফেটে গেছে। এখন খুব তাড়াতাড়ি তার লিভারে একটি জটিল অপারেশন করতে হবে।

জানা গেছে, ৬৮ বছর বয়সী এই বংশীবাদক রাজার আসল নাম মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান। গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ঠুটাহার পাড়া গ্রামে।

খুব ছোট বেলা থেকেই বাঁশি বাজানো তার নেশা। সেটার প্রমাণও পাওয়া গেল হাসপাতালের বিছানাতেই। হাসপাতালে তার কাছে যেতেই বিছানার পাশ থেকে সেই বাঁশিটি নিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বাজানোর চেষ্টা করেন তিনি।

আরো জানা গেছে, বংশীবাদক আলাউদ্দিন স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দেশের জন্য ৮ নম্বর সেক্টরে আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে যুদ্ধে করেছেন। অথচ এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটও পাননি। তবে, সার্টিফিকেট কিংবা ভাতা পাননি বলে তার কোনো আক্ষেপ নেই।

দুঃখের বিষয় হলো গত ৭ দিন ধরে হাসপাতালে বিছানায় জটিল রোগে কাতরালেও এই দেশপ্রেমিক মানুষটির খোঁজ নেয়নি কেউ। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও সুদৃষ্টি দেয়নি।

বংশীবাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন খান জানান, আমি দেশপ্রেমিক মানুষ। আমি দেশকে ভালোবাসি। আমি দেশের কাছে টাকা পয়সা কিছুই চাই না। শুধু সঠিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে আবার রাস্তার মানুষের কাছে ফিরে যেতে চাই। রাস্তায় গিয়ে মানুষের সাথে মিশতে আমার ভালো লাগে। আমি শুধু দেশের মানুষের ভালোবাসা চাই। চাই সবাই যেন আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে। আমার জন্য দোয়া করে।

তিনি আরো বলেন, আমি অনেক ছোট বেলা থেকেই ধুমপানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি। এখনও করি। এই যে দেখেন আমার প্রতিটি কাপড়ে ধুমপানমুক্ত লেখা আছে। অনেকে আমাকে বলেছে আপনি দেশের বাইরে চলে যান। কিন্তু আমি যাইনি। আমি দেশের মাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাবো না। আমি একটি সুন্দর দেশ দেখতে চাই।

হাসপাতালে তার কাছে আছে শুধু বৃদ্ধা মা ও ছোট বোন। মা রিজিয়া বেগম বলেন, আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে