আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আইন-মানবাধিকার > কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি‘র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি‘র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড.মোহিত উল আলম

প্রতিচ্ছবি ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড.মোহিত উল আলমের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ১২লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন শহরের গোলকীবাড়ীর নুরুল বাকী খান । মামলার নম্বর ৪/২০১৭।

মামলার বিবরণে তিনি অভিযোগ করেন, ত্রিশালের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মোহিত উল আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভিসির জন্য ইয়ার মার্ক করা বরাদ্দকৃত বাসভবনে বসবাস করেন। এর পরও যোগদানের পর থেকে প্রতি মাসে বাড়ি ভাড়া বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২৩ লাখ টাকা আতœসাৎ করেছেন। ঢাকায় তার বাসায় আসবাবপত্র ও ইলেক্টনিক সামগ্রী ক্রয় বাবদ ২৫ লাখ টাকা, বাসা বাড়ীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রতিমাসে স্টেশনারী, ডিশ বিল, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, ইন্টারন্যাট, টেলিফোন, মোবাইল, পত্রিকা বিল ইত্যাদি বাবদ মাসিক ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, মাসিক ৬ হাজার টাকা মোবাইল বিল উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাত করেছেন।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি‘র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

মামলায় আরো উল্লেখ, ক্যাম্পাসে তার বাসা থাকার পরও ঢাকার নিজ বাসার নামে নিয়ম বহির্ভুত ডিএ বাবদ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তেলন করেছেন। এছাড়া তিনি ৬০ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহন করেছেন বলে অভিযোগে রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিল্ডিং নর্থ এর ভ্যার্টিক্যাল এক্সটেনশন কাজে প্রায় ২২ কোটি টাকার কাজের দরদাতা ৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিন্ম দরদাতাকে কাজ না দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিন্ম দরদাতাকে উৎকোচের বিনিময়ে কাজ প্রদান করেছেন। এভাবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০টি কাজ উৎকোচের মাধ্যমে প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী আগে ১৫ হাজার টাকা থাকলেও তিনি ১ লাখ টাকায় উন্নীত করে তা গ্রহন করেন। ২০১৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভ্রমনের সময় পাজারো জিপটি দুর্ঘটনায় পতিত হলে মেরাতম বাবদ ১২ লাখ টাকা ব্যয় করেন।

এছাড়া তিনি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও ইন্টারভিউ ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে ৮জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়াসহ বেআইনী ও এখতিয়ার বহির্ভুতভাবে ৫ কোটি ১২ লাখ আতœসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), রাধেশ্যাম, উপ পরিচালক (অডিট), মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), মোঃ এনামুল হক, হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা, প্রফেসর এ এস এম শামসুর রহমান, ট্রেজারার, মোঃ হাফিজুর রহমান, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), কাজী মাহবুব ইলাহী চৌধুরী, উপ পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)কে স্বাক্ষী করা হয়েছে। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছেন। বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোজাক্কির হোসেইন জাকির।

কাজী মোহাম্মদ মোস্তফা / এ এস

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে