আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সড়ক’, জানুয়ারিতেই উদ্বোধন

দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সড়ক’, জানুয়ারিতেই উদ্বোধন

digital-road

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রাজধানীর বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভিআইপি সড়কটির দুই পাশে ছিল ঝোপঝাড় আর জঙ্গল। এক সময় এসব ঝোপঝাড়ে অপরাধী ও মাদকাসক্তদের আখড়া ছিল। যৌনকর্মীদের বিচরণসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হতো এ সড়কে। আর অন্ধকারে এটি ছিনতাই হাইজাক স্পট হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন সে অবস্থা আর নেই। ইতোমধ্যেই কেটে পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে রাস্তার দুই পাশ। ভিআইপি এই সড়কটিকে উন্নত বিশ্বের সড়কপথের আদলে সাজানো হচ্ছে।

digital-road-10

পৃথিবীর জনবহুল ব্যস্ত শহরের অন্যতম ঢাকা। আর সেই রাজধানী ঢাকাতেই হচ্ছে দৃষ্টি নন্দন ও আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে এ ‘ডিজিটাল সড়ক’ । ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সড়ক’ প্রকল্পের কাজ।

digital-road-14

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এ সড়কটির আধুনিকায়নের কাজ করছে ‘ভিনাইল ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে সরকারের কোনো ব্যয় হচ্ছে না। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে এই খরচ তুলে নেবে।

digital-road-6

রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কাকলী পর্যন্ত দুই দিকে মোট ছয় কিলোমিটার রাস্তায় সবুজায়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে যাত্রী-বান্ধব বিভিন্ন সুবিধা থাকবে। সড়কের দুই ধারে নানা জাতের ফুল ও ফলের গাছ, আছে ঝরনা, লেক ও বাচ্চাদের খেলার জায়গা। থাকছে খাবারের সু-ব্যবস্থা। পথচারীদের জন্য রয়েছে বিশ্রামের স্থান। সড়কের ভারী যানবাহনের পাশাপাশি থাকছে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন। এলইডি পর্দায় ভেসে উঠবে সাম্প্রতিক ঘটনাসহ ঐতিহাসিক ঘটনার খ- চিত্র। থাকছে আধুনিক যাত্রীছাউনি।

digital-road-7

বনানী রেলওয়ে ওভারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ছয় কিলোমিটারজুড়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দুপাশে এসব কর্মযজ্ঞ এখন যে কারো চোখে পড়ে। বিভিন্নস্থানে অবশ্য এখনই দেখা যাচ্ছে ফুলের ছোট বাগান, কৃত্রিম ঝরনা, আলোর খেলা, হাঁটার আলাদা লেন, বাহারি মাছের লেকসহ নান্দনিক দৃশ্য।

ডিজিটাল সড়কের পাশে দেশের সবচেয়ে বড় মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মাণ শেষ হয়েছে। বিশ্রামাগার, এটি-এম বুথ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা থাকবে এমন ১০টি ডিজিটাল যাত্রী ছাউনির কাজও অনেকটা শেষ পর্যায়ে। কৃত্রিম ঝরনা, ফোয়ারাসহ দৃশ্যমান স্থাপনাগুলো ইতোমধ্যেই পথচারীদের দৃষ্টি কেড়েছে।

digital-road-4

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ সড়কটিতে গণপরিবহনে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, আলাদা লেন তৈরি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, ও আলোক সজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। ব্যানার, ফেস্টুন তোরণের বদলে থাকবে নির্দিষ্ট স্থানে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা থাকবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ‘বেস্ট ফিটিং জোন থাকবে,সড়কে ওয়াইফা জোন থাকবে। নতুন যাত্রীরা বুজতে পারবে কোন গাড়ি কোন দিকে যাবে, ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে সেগুলো প্রদর্শন করা হবে।’

digital-road-3

ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপের সিইও আবেদ মুনসুর বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে ১৬০ টি বনসাই এনেছি আমরা। এর মধ্যে ১০০টি গাছ লাগিয়েছি। এর পর সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর আর গাছ লাগানোর দরকার নেই। এখন পর্যন্ত দেড় থেকে দুই লক্ষ বিভিন্ন দেশী প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। বর্তমানে এখানে কিন্তু ১০০টি বনসাইও নেই, অবশিষ্ট আছে মাত্র ৭৬টি গাছ।

digital-road-11

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, ‘ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আশ্বাস-শুধু রাস্তার দুপাশেই নয়, মূল সড়কে জলাবদ্ধতা-মুক্ত, উন্নত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই মাসে উদ্বোধনের কথা ছিল। আরও কিছু কাজ যোগ হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়েছে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে