আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > মতামত-চিন্তা > ‘ধর্ম-রাষ্ট্র-জাত’ বেছে না নেয়া ছেলেটি

‘ধর্ম-রাষ্ট্র-জাত’ বেছে না নেয়া ছেলেটি

‘ধর্ম-রাষ্ট্র-জাত’ বেছে না নেয়া ছেলেটিসারোয়ার তুষার:

নয় বছরের একটা ছেলে শরীরে তিন তিনটি বুলেটের আঘাত বহন করেও দমে যায়নি । চোখের সামনে মা-বাবাকে নৃশংসভাবে খুন হতে দেখেও দমে যায়নি । কারণ তার একটা “জীবন” আছে, তার একটা “অস্তিত্ব” আছে । যে অস্তিত্ব দিয়ে সে নিজে তার ধর্ম-রাষ্ট্র-জাত বেছে নেয়নি । সীমানা বেছে নেয়নি ।

শুধু তো নিজের অস্তিত্বটাই নয়, তার দুইবছরের একটা বোনও আছে । সেই বোনেরও জীবন আছে । দুই বছরের সেই বোন তো বটেই, সেই বোনের নয় বছর বয়েসী ভাই সোলায়মানও এখনো ঠিকঠাক জানেনা স্বাধীনতা-গণতন্ত্র-রাষ্ট্র-ধর্ম-জাতপাতের পার্থক্যের কারণে এই পৃথিবীতে মানুষকে আলাদা করা হয় ।

জানার আগেই শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর রাষ্ট্রের “সুসংগঠিত” সেনাবাহিনী সমস্ত শক্তি নিয়ে প্রবল আক্রোশে তাদের উপর হামলে পড়েছে । তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে । নারীদের ধর্ষণ করেছে । শিশুদের জ্যান্ত পুতে ফেলেছে । ধর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলেছে ।

তবুও এটা “অন্ধকারের যুগ” নয় । এটা “পরম সভ্য ও আধুনিকতার” যুগ । এই যুগে বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু এলিট হতে হয় ততটুকু এলিট তার জনগোষ্ঠী নয় ।

‘ধর্ম-রাষ্ট্র-জাত’ বেছে না নেয়া ছেলেটি

জাতিরাষ্ট্রময় একুশ শতকে সোলায়মানদের রাষ্ট্র নেই, আর রাষ্ট্র নেই মানে তারা “অবৈধ” মানুষ । সর্বাত্মক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই সময়ে , যাদের রাষ্ট্র নেই তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই । তারা ঠিক মানুষ নয় । ন-মানুষ ।

“অবৈধ” যেহেতু তারা, “সন্ত্রাসী” যেহেতু তারা, তাই তারা তাদের জন্মভূমিতে থাকতে পারবেনা । মা-বাবা তো নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছেই, যদি কোন মতে নিজের ও নিজের বোনের জীবনটা বাঁচানো যায়, সেই আশায় সোলায়মান তিনদিনে পাঁচ পাঁচটি নদী ও অসংখ্য পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে, বোনকে কাঁধে বয়ে নিয়ে এসেছে পাশের রাষ্ট্রে ।

শুনেছে সেখানে গেলে আপাতত জীবনটা বাঁচবে । শুনেছে সেই রাষ্ট্রের কিছু কিছু “অসাধারণ জ্ঞানীগুণী” মানুষ তাদের “সন্ত্রাসী”, “জঙ্গি”, “বর্বর”, “মাদক পাচারকারী”, “বেঁচে থাকার অনুপুযুক্ত” ভাবলেও, সেই রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনো অতটা “বিদগ্ধজন” হয়ে উঠতে পারেনি বলে সোলায়মানদের চিড়া-মুড়ি-বিস্কিট-স্যালাইন সহ যে যা পারছে তা সরবরাহ করছে, সহানুভূতি জানাচ্ছে ।

কারণ এই রাষ্ট্রের মানুষদেরও একসময় এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে । সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো সেই দেশ, বাংলাদেশকে তাড়িয়ে ফেরে ।

ইতিহাসে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দায় পূরণের সুযোগ বারবার আসেনা, কিন্তু যখন আসে তখন সেই দায়ে সাড়া না দিলে ইতিহাস তা মনে রাখে । বাংলাদেশ তাই ভুল করবেনা…

এন টি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে