আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > টাইগারদের মিশন এবার দক্ষিণ আফ্রিকা

টাইগারদের মিশন এবার দক্ষিণ আফ্রিকা

টাইগারদের মিশন এবার দক্ষিণ আফ্রিকা

প্রতিচ্ছবি স্পোর্টস প্রতিবেদক :

অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ ড্র-এর পর আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের। খেলবে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে এবং দুই টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। এর আগ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রাপ্তির খাতা একেবারে শূন্য। এবার সেখানে অর্জনের চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট হেরে কিছুটা রং হারিয়েছে টাইগাররা , তবু অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জেতা, সিরিজ ড্র নিঃসন্দেহে বিশাল অর্জন। ক্রিকেটীয় আত্মবিশ্বাসের তাই ঘাটতি থাকার কথা নয় খেলোয়াড়দের। কিন্তু ইদানীং যে মাঠের বাইরের ব্যাপার-স্যাপারগুলো বড্ড ভোগাচ্ছে সবাইকে। যেমন দল নির্বাচন।

সাম্প্রতিক সিরিজগুলোয় মাঝেমধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ‘দল নির্বাচনের সার্কাস’। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ থেকে মাহমুদ উল্লাহকে দেশে ফেরত পাঠানো-না পাঠানো নিয়ে কম নাটক হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্কোয়াড ঘোষণায় মমিনুল হককে বাদ দেওয়া নিয়েও হয়েছে যেমন। পরে অনেক জল ঘোলা করে ওই ব্যাটসম্যান ফিরেছেন স্কোয়াডে, কিন্তু কোচের সুদৃষ্টিতে ফিরতে পারেননি। প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে না থাকা এবং দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাটিং করাই যার প্রমাণ।

নির্বাচকদের কাজটি তাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে আরো বেশি করে। এমনিতেই দল নির্বাচনে তাঁদের কতটা ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে, এ নিয়ে প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের স্কোয়াড ঘোষণার সময়ও তাঁদের দিকে থাকবে শ্যেনদৃষ্টি। আর মিনহাজুল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির এবারের দলটাও ভিন্নরকম হতে বাধ্য। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেমন একাদশে এক পেসার খেলিয়ে দেওয়া গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় তো আর তেমনটি করা যাবে না। সেখানে স্পিনারদের চেয়ে পেস বোলারদের ওপরই ভরসা করতে হবে বেশি। কিন্তু সেটি তো বাংলাদেশের বরাবরের ‘দুর্বল’ জায়গা। সেই ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে রবিউল ইসলামের পর আর তো কোনো পেস বোলার টেস্ট ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিতে পারেননি। স্পিনারের মধ্যে সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা যা করে দেখাচ্ছেন প্রায়ই। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই পেসারদের নিয়ে দল নির্বাচনে যেমন মাথা ঘামাতে হচ্ছে নির্বাচকদের, ওই দেশে গিয়ে পেসারদের নিয়ে টেস্ট অধিনায়কেরও কালঘাম ছুটবে।

পেস বোলারদের নিয়ে যেমন দুশ্চিন্তা, তরুণ ব্যাটসম্যানদের নিয়েও তেমন। সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমানরা যে আস্থার প্রতিদান ইদানীং দিতে পারছেন না সেভাবে! আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয় বলুন কিংবা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠা—বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সব সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখছেন অভিজ্ঞরাই। সেই সাকিব, সেই তামিম, সেই মুশফিক, সেই মাহমুদ উল্লাহ। দক্ষিণ আফ্রিকাতেও দল তাঁদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে বেশি করে। মাঠের ক্রিকেটে ভালো ফল এনে দেওয়া বাংলাদেশ এখন মাঠের বাইরের নানা ঘটনাপ্রবাহে না এলোমেলো হয়ে যায়! দল নির্বাচন নিয়ে, বোর্ডের সঙ্গে অধিনায়কের টানাপড়েন নিয়ে। সেগুলো ঠিকঠাক থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও ভালো ফলের প্রত্যাশা বাড়াবাড়ি নয়। তা অতীতের রেকর্ডের পাতা যত বিবর্ণই হোক না কেন!

এন এম/ এন টি

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে