আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > খেলাধুলা > জয় দিয়ে সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া

জয় দিয়ে সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া

টাইগারদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৮৬ রানের মামুলি টার্গেট

প্রতিচ্ছবি ক্রীড়া প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম টেস্ট জিতে সিরিজ সমতার স্বস্তি নিয়ে দেশে ফিরতে অজিদের সামনে মাত্র ৮৬ রানের মামুলি টার্গেট। ব্যাট করার জন্য মাঠে নেমেছিলেন দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ম্যাট রেনশ।

তবে, মোস্তাফিজের ভেলকি যে আরো বাকী আছে। সেটা ভুলে গিয়েছিলেন অজি ক্রিকেটাররা। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও মোস্তাফিজের বলে মাত্র ১৩ রান করে বিদায় নেন ওয়ার্ল্ড ক্লাস ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। আর তাইজুলের শিকার হন স্টিভেন স্মিথ (১৬)। শেষ খবর পর্যন্ত অজিদের সংগ্রহ ৯.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান।

জয় দিয়ে সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়া

এর আগে শোচনীয় ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভালো কিছুর আশা শেষ টাইগারদের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ১৫৭ রানে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং একাই ধস নামান অজি স্পিনার নাথান লায়ন। প্রথম ইনিংসে ৯৪ রানে নিয়েছিলেন ৭ উইকেটে। আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬০ রান দিয়ে নিলেন ৬ উইকেট। মানে দুই ইনিংসে ১৩ উইকেট। টেস্টে এটা তার সেরা বোলিং ফিগার।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩০৫ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান করে বুধবার তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল অজিরা। চতুর্থ দিনে মাত্র ১১ বল মোকাবেলা করে আগের দিনের সঙ্গে কোনো রান যোগ না করেই অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ উইকেটটি নেন মোস্তাফিজ। ৮৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার তিনিই।

জয় দিয়ে সমতায় ফিরলো অস্ট্রেলিয়াপ্রথম ইনিংসে ৭২ রানে পিছিয়ে থাকার চাপ নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এরপর যা হয়েছে তা লজ্জার। উইকেট যে খুব একটা কঠিন ছিল তা নয়, কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় টপাটপ পড়তে থাকলো উইকেট। লড়াইয়ের পরিবর্তে আগেভাগেই হাল ছেড়ে দিতে থাকলো টাইগাররা।

শুরুটা করেন সৌম্য সরকার, ৯ রান করার পর পেসার কামিন্সের বলে আউট হয়ে। সকালে যে পথটা দেখিয়ে গেলেন সৌম্য, সে পথেই একে একে হাঁটলেন তামিম (১২), ইমরুল (১৫), নাসির (৫) ও সাকিব (২)। ৪৩ রানেই অর্ধেক শেষ। সাম্প্রতিক বছরগুলো এমন ব্যাটিং ধস দেখা যায়নি টাইগারদের।

তাহলে কী ৭২ রানও টপকাতে পারবে না বাংলাদেশ? ভালো কিছুর হিসেবে কষেও হারতে হবে ইনিংস ব্যবধানে? এই শঙ্কায় যখন দল তখন লড়াই চালিয়ে যাবার ঘোষণা মিলল অধিনায়ক মুশফিক ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে। ৪০ রানের জুটি গড়ে লাঞ্চে যান তারা। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৮৩। ৯ রানের লিড।

কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টের বারটা তো আগেই বাজিয়ে গেছেন প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান। পাঁচজন মিলে ১০০ রানও যদি করে যেতেন! তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

ভরসা যেটুকু ছিল তা মুশফিক ও সাব্বিরকে নিয়ে। কিন্তু ভালো খেলার পথে ২৪ রান করার পর লায়নের বলে স্ট্যাম্প হয়ে যান সাব্বির। প্রথম ইনিংসে ৮২ বলে ৩১ রানের ছোটখাটো একটা লড়াকু ইনিংস খেলেছিলেন মুমিনুল। আর মুশফিকের ব্যাট থেকে এসেছিল ৬৮ রান।

কঠিন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়াই ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। তাদের কাছ থেকে দরকার ছিল বড় ইনিংস। কিন্তু ১২৮ বলে ৩১ রান করে কামিন্সের শিকার হন অধিনায়ক। এরপর কিছু সময় উইকেটে থাকার পর ২৯ রান করে আউট হয়ে যান মুমিনুল। ব্যস, এখানেই সব শেষ। বাংলাদেশ অলআউট মাত্র ১৫৭ রানে।

প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৭ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসেও লায়ন স্পিনে কুপোকাত টাইগাররা। ৬০ রানে নেন ৬ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩০৫/১০ ও ১৫৭/১০ (তামিম ১২, সৌম্য ৯, ইমরুল ১৫, ৫, সাকিব ২, মুশফিক ৩১, সাব্বির ২৪, মুমিনুল ২৯, মিরাজ ১৪* , তাইজুল ৪ ; কামিন্স ২/২৭, লায়ন ৬/৬০, ও’কিফ ১/৪৮, অ্যাগার ০/৯, )

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১১৯.৫ ওভারে ৩৭৭/১০

(রেনশ ৪, স্মিথ ৫৮, ওয়ার্নার ১২৩, হ্যানন্ডসকম ৮৮, ম্যাক্সওয়েল ৩৮, কার্টরাইট ১৮, ওয়েড ৮, অ্যাগার ২২, ও’কিফ ৮* ; মিরাজ ৩/৯৩,  মোস্তাফিজ ৪/৮৪, সাকিব ১/৮২, তাইজুল ১/৭৮, নাসির ০/১৪)

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে