আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রোহিঙ্গা সংকট > বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমছে বনভূমি: দখলে ৪শ’ একর

বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমছে বনভূমি: দখলে ৪শ’ একর

বাড়ছে রোহিঙ্গা, কমছে বনভূমি: দখলে ৪শ' একর

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

কক্সবাজারে উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা দখল করে নিচ্ছে বনবিভাগের শতাধিক একর জমি। দিনদিন গিলে খাচ্ছে সরকারের রিজার্ভ বনভূমি ও সামাজিক বনায়ন। রোহিঙ্গারা প্রতিদিন সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে একরের পর একর বনভূমি দখলে নিয়ে তুলছে বসতি। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে রোহিঙ্গাদের বস্তির আয়তন।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে তোলা হচ্ছে একের পর এক এসব বস্তি। বিশেষ করে উখিয়ার বালুখালী, ঢালার মুখ, থাইনখালী হাকিম পাড়া, তেলখোলা, টিভি টাওয়ারের পাশে সহ এলাকায় গড়ে ঊঠছে এসব বস্তি। এ বিষয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে বনবিটের কর্মীরা।

এই কয়েক দিনে কক্সবাজারে উখিয়ায় ও টেকনাফ উপজেলায় নতুন করে ৪০০ একরের বেশি পাহাড়ি বনভূমি দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। গত দুই দিনের মধ্যে ৬টি স্থানে অর্ধশতাধিক পাহাড়ের গাছ-পালা কেটে তারা গড়ে তুলেছে হাজারো নতুন বসতি। ইতোমধ্যে ওইসব স্থানে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে আরও রোহিঙ্গা।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দুই পাশে উখিয়ার বালুখালী ঢালা এলাকায় রয়েছে অসংখ্য পাহাড়। মহাসড়ক থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরত্বের মধ্যেই ওই পাহাড়ের শুরু। পাহাড়গুলোতে গত দুই দিনে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সেখানে পাহাড় কেটে সমতল করে বসতি নির্মাণের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সদ্য অনুপ্রবেশ করা রোহিঙ্গারা নির্বিচারে কেটে ফেলছে সমস্ত গাছ-পালা। পরে বাঁশ ও কালো পলিথিন দিয়ে ঝুঁপড়ি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

একইভাবে পাহাড় নিধনযজ্ঞ চলছে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিম পাড়া ও থাইংখালী এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যংয়ের পুটিবনিয়া এলাকায়।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, মিয়ানমারের নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ৯০ হাজার রোহিঙ্গা। স্থানীয়দের মতে যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে।

এরপরও প্রতিদিন শতশত রোহিঙ্গা টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং ছাড়াও নতুন করে বালুখালী, মাইন্যার ঘোনা, হাকিম পাড়া, তাজিনামার খোলা এলাকার বনভূমি দখল করে বসতি স্থাপন করছে।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বনভুমি দখলের কথা স্বীকার করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে বর্ডার শিথিল করায় রোহিঙ্গা এসেছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সরকার নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় রাখাসহ বনভূমি, পাহাড় ধ্বংসে সহায়তাকারী দালালদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তিনি।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি ভারী হয়ে উঠেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কারণে ঠিকমত এলাকার ছেলে-মেয়ে স্কুল কলেজে যেতে পারছে না।

তিনি আরো বলেন ১৯৭৮, ১৯৯০, ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সমস্যা দেখেছি। ওরা এদেশে আসলে আর যেতে চায় না। ফলে সামাজিক অবক্ষয় দিনদিন চরম আকার ধারণ করেছে । তার মতে, ঘুমধুম সীমান্তে ৩৬ মাইল বর্ডার জুড়ে ৫০ হাজার এবং পুরমা নদীর পার্শ্ববর্তী আরো ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসার জন্য অবস্থান করছে।

স্থানীয় বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০০২-০৩ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৫ শতাধিক একর সংরক্ষিত বনভূমির সামাজিক বনায়ন রয়েছে উখিয়ার ঘাট, থাইংখালী, মোছারখোলা বনবিট আওতাধীন। এসব বন এলাকার মধ্যে উখিয়ার ঘাট ও থাইংখালী বনবিটের আওতাভুক্ত প্রায় ২শ একর সামাজিক বনায়নের অন্তত ২ কোটি টাকার গাছ উজাড় হয়ে গেছে বলে সামাজিক বনায়ন উপকারভোগীরা জানান।

সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী ডা. ফিরোজ আহমদ ও মৌলানা গফুর উল্লাহ জানান, বালুখালীতে নতুন রোহিঙ্গা বস্তি হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বনভূমি। সরকার ও উপকারভোগীরা বনের গাছ হারিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে তারা জানান। কিন্তু এই সামাজিক বনায়নের গাছ সাবাড় করে সেখানে নতুন করে রোহিঙ্গা বস্তি গড়ে উঠেছে। এতে প্রায় ২শত একর সামাজিক বনায়ন চলে গেছে রোহিঙ্গাদের দখলে।

খবর পেয়ে স্থানীয় বনবিভাগ এতে উচ্ছেদ অভিযান করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের বাধার সম্মুখীন হয়েছে একাধিকবার, এমনটি জানান, উখিয়ার ঘাট বনবিট কর্মকর্তা মোবারক আলী।

এসএম 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে