আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে মুক্তামনি

তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে মুক্তামনি

তৃতীয় দফা অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে মুক্তামনি

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

রক্তনালীতে টিউমারে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনির তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচার শেষ হয়েছে। এখন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ঢোকানো হয়। তিন ঘণ্টা পর ওটি থেকে বের করা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ও মুক্তামনির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডাক্তার সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় মুক্তামনিকে চার ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। অস্ত্রোপচারে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তামনির আবারো অস্ত্রোপচার করা হবে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় মুক্তামনির অপারেশন শুরু করেও তা শেষ করতে পারেননি চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত জ্বর থাকায় মাঝপথেই বন্ধ করতে হয় অপারেশন।

বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি মুক্তামনির প্রথম দফায় অস্ত্রোপচার হয় ১২ আগস্ট। ওই সময় তার ডান হাত থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলে জানান তারা।

১২ বছরের মুক্তামনি জটিল রোগে আক্রান্ত সম্প্রতি এমন সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাকে ঢাকায় আনা হয়। তার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ঢাকা মেডিকেলই মুক্তামনির চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। তার জন্য হাতপাতালের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দল গঠন করা হয়। দলের তত্ত্বাবধানে মুক্তামনির চিকিৎসা চলছে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবাইসা গ্রামের মুদি দোকানি বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও গৃহিণী মা আসমা খাতুনের দুই জমজ সন্তানের একজন মুক্তিমনি, অন্যজন হীরামনি। ছেলে আল আমিনের বয়স এক বছর তিন মাস। মাত্র দেড় বছর বয়সে মুক্তামনির এ রোগ ধরা পড়ে। প্রথমে এলাকার চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসা চলে। সে সময় অনেকটা ভালোই ছিল মুক্তামনি। তখন সে স্কুলেও যেত। বোনের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। মীর্জানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী সে। বর্তমানে হীরামনি সেই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মুক্তামনিও সুস্থ হয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরবে এমনটাই আশা করছে তার পরিবার।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে