আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > বাজার গরম, আসছে রমজান

বাজার গরম, আসছে রমজান

২৬ মে, ২০১৭

বাজার গরম, আসছে রমজান

আহমেদ রুমী:

রোজা শুরু হতে বাকী আর মাত্র একদিন। প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানের শুরুর দিকে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন হওয়ার কথা থাকলেও বাজারের চিত্র বেশ ভিন্ন। এতে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা যেমন সন্তুষ্ট, তেমনি খুশি ক্রেতারাও।

বিক্রেতারা জানান, রমজানে যেসব পণ্য প্রয়োজন, সেসবের দাম এখনও হাতের নাগালেই আছে। তবে এখন ক্রেতার ভিড় বেশি থাকায় কোথো কোথাও বেশি দামে কেনা-বেচা চলছে।

সরেজমিনে রাজধানীর সেনানিবাস ও মিরপুর এলাকার খুচরা বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ছোটখাটো বাকবিতন্ডা হলেও ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেই বাড়ি ফিরছেন।

ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেত বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, খুচরা বাজারে না এলে আসল পরিস্থিতি দেখা যায় না। পণ্যের গুদামজাতকরণ, পণ্যের দাম বাড়ানো পাইকারী বাজারের চেয়ে এসব বাজারেই বেশি হয়। বাজার সম্পর্কে ক্রেতারা জানান, দাম গত কয়েকদিনের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও এখনো নাগালের বাইরে যায়নি, এটাই সমচেয়ে বড় স্বস্তি।

এদিকে, খুচরা বাজারের সাথে পাইকারী বাজারের পণ্যের দামে বেশ ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।

ramadan-3কচুক্ষেত ও মিরপুরের কাচাবাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫০-৬০ টাকা, যা কাওরান বাজারে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। টমেটো খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পাইকারী বাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বেগুন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৮০ টাকা, পাইকারী বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে প্রতিকেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। পাইকারী বাজারে ৪০ থেকে ৭০ টাকা। পাইকারী ও খুচরা বাজারে গাজরের দাম বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। কাওরান বাজারে গাজর ৫০-৬০ টাকা, কচুক্ষেত বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। লেবু প্রতি হালি ২০-২৫ টাকা থেকে দ্বিগুন বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে, আলু ও পেঁয়াজের দাম খুব বেশি ওঠা-নামা নেই। আলু ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কচুক্ষেত বাজারে আসা সাজ্জাত হোসেন নামে এক ক্রেতা প্রতিচ্ছবিকে বলেন, দুই একদিন পরেই সংযমের মাস শুরু হবে। কিন্তু বাজারের বিক্রেতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতি কেজি বেগুন, টমেটো কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়।

পুরো বাজারেই সবজির পর্যাপ্ত মজুদ দেখা গেলেও বিক্রেতা মহিউদ্দিন বলেন, গরম বাড়ায় বাজারে কাঁচামালের সরবরাহ সামান্য কম। এছাড়া রমজানে সময় বেগুন, টমেটো, লেবু, কাঁচামরিচের চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে।

ramadan-4এদিকে, রোজায় সেহরি ও ইফতারে ফলমূলের চাহিদা থাকায় বাজারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফলের দোকান দেখা গেছে।

বিভিন্ন দেশের খেজুরের বিপুল সমাহার নিয়ে বসেছেন জামাল মিয়া। তিনি প্রতিচ্ছবিকে বলেন, সৌদি আরব, দুবাই, ইন্দোনেশিয়ার খেজুর মানে ভালো। তাই দাম তুলনামূলক বেশি। দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশি খেজুর ২৬০ টাকা আর দুবাই, ইন্দোনেশিয়া ও সৌদির খেজুর ৪৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাশের দোকানেই দেখা গেছে, আম, মাল্টা, ডালিম, আঙুরের সমাহার। দোকানি জানালেন, হিমসাগর আম ১৩০ টাকা ও ন্যাংড়া আম ১১০ টাকা। মাল্টা ১৩০-১৬০ টাকা। আঙুর ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কলা, লিচু, পেপে, আনারস, তরমুজ, বেলসহ সবধরনের ফলের দোকানেই দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।

ramadan-1এদিকে, রমজানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ছোলা, চিনি, বেসন, মুড়ি ইত্যাদি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে আগের চেয়ে প্রত্যেকটি পণ্যেই ৫-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলেও ক্রেতারা কিনছেন সবই। তবে তেল, ডালের দাম আগের চেয়ে কমেছে বলেও দাবি করছেন বিক্রেতারা।

জানা গেছে, ছোলা ৮৮ টাকা, চিনি ৭২ টাকা, বেসন কোয়ালিটি ভেদে ৬০-১০০ টাকা, খোলা মুড়ি ৬০ টাকা ও প্যাকেটজাত মুড়ি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে, ডাল ভেদে মুসুরি খেসারি ও অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে ৪-৬ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে