আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > প্রেমের টানে প্রাসাদ ছাড়লেন জাপানের রাজকুমারী

প্রেমের টানে প্রাসাদ ছাড়লেন জাপানের রাজকুমারী

প্রেমের টানে প্রাসাদ ছাড়লেন জাপানের রাজকুমারী

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

বিশাল রাজপরিবারের রাজকন্যা তিনি। হুট করেই নেমে এলেন সাধারণ মানুষের কাতারে। প্রেমের কারণে ছাড়লেন রাজপরিবারের ভোগবিলাস। ভালোবাসার মানুষকে পেতে যুগে যুগে অনেকেই প্রতিপত্তি-ক্ষমতা, রাজ্য ত্যাগ, এমনকি সিংহাসন ত্যাগ করেছেন। এই তালিকায় এবার নিজের নাম যোগ করলেন জাপানের রাজকন্যা মাকো।

এক সাধারণ পরিবারের সন্তান কোমুরোকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন রাজকন্যা মাকো। গত রবিবার তাঁদের বাগদান (এনগেজমেন্ট) হলো। পাত্র কোমুরো টোকিওর একটি ল’ অফিসের সাধারণ কর্মী।

অনেকদিনের প্রেম তাদের। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ে হবে মাকোর। কিন্তু একই সঙ্গে রাজপরিচয় হারাবেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পরিবারে বিয়ে করায় রাজপরিবারের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছেদ করতে হবে যুবরানি মাকোকে। তিনি সম্রাট আকিহিতোর চার নাতি-নাতনির মধ্যে বয়সে সবচেয়ে বড়।

রোববার সমবয়সী হবু বরকনে একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে আসেন নিজেদের বাগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে। তখনই মাকো বলেন, ‘আমি ছোটবেলায়ই সচেতন ছিলাম, বিয়ে করলে আমি রাজপরিচয় ছেড়ে দেবো। তাই একদিকে যেমন আমি সম্রাটকে তার কাজে সাহায্য করেছি এবং রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, অন্যদিকে নিজের জীবনও গড়েছি।’

পাত্র কোমুরোর সঙ্গে জাপানের রাজকন্যা মাকোর পরিচয় হয় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়। সেই কলেজের গণ্ডী পেরিয়ে রাজকন্যা মাকো লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও পেয়ে গিয়েছেন আগেই। কাজ করছেন টোকিওর মিউজিয়ামে গবেষক হিসেবে। আর কলেজের পড়াশোনা শেষ করে টোকিওর একটি ল’ অফিসে কাজ করতে ঢোকেন কোমুরো।

এদিকে, ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে জাপানের রাজপরিবার। শারীরিক কারণে আর রাজক্ষমতা ভোগ না করার ইচ্ছা আগেই প্রকাশ করেছিলেন ৮৩ বছর বয়সী সম্রাট আকিহিতো। গত জুনে তাঁর সেই ইচ্ছা অনুমোদিত হয়েছে জাপানের পার্লামেন্টে। সাধারণ নাগরিককে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাকো রাজপরিবারকে আরও সংকুচিত করে দিলেন কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে। জাপানের সংবিধান অনুযায়ী, রাজপরিবারের পুরুষ সদস্যরাই কেবল সিংহাসনের উত্তরাধিকার হন। যদিও বতর্মান প্রজন্ম চায় রাজদণ্ড শুধুই রাজবংশের পুরুষদের হাতে নয়, নারীদের হাতেও যাওয়া উচিত। তবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জাপান সরকার। তবে দাবি উঠেছে, এবার নারী সদস্যদের সিংহাসনে আসীনের প্রস্তাব উঠেছিল। সে তালিকায় প্রথমে ছিলেন মাকো।

এন টি

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে