আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > রোহিঙ্গা সংকট > আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

জাতিসংঘের হিসেবে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত ৮ দিনে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এসব শরণার্থীর মধ্যে প্রায় সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে এসব মানুষ পালিয়ে এসেছে বলে জানায় ইউএনএইচসিআর। খবর বিবিসি।

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, কিন্তু বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লোকেরা বলছে, সৈন্যরা তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। তবে মিয়ানমারের সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, সেখানে কেবল একটি রোহিঙ্গা গ্রামেই সাতশো বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে এ দৃশ্য দেখা গেছে। এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোগান যেভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে তাকে রীতিমত গণহত্যা বলে বর্ণনা করেন।

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভয়ান ট্যান বলেন, এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের আনুমানিক সংখ্যা ৫৮ হাজার ৬০০। এ সংখ্যা ক্রমে বাড়ছেই। জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বা ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা ভিভিয়ান ট্যান বলেছেন, যে ভাবে লোক আসছে তাতে আর কয়েক দিনেই সীমান্তে যে শিবিরটি আছে তা পুরো ভরে যাবে।  আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর আশু কোন সমাধান দিতে পারছেনা। ব্যাহত হচ্ছে ত্রান কার্যক্রম।

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

যদিও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য তারা সীমান্তে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু গত ২ দিন ধরে সীমান্তে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হচ্ছে বলে সূত্রগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছে।

আট দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম জানান, একেবারে দুস্থ মহিলা এবং শিশুদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছি। ফিরিয়ে দেয়ার পরও মানবিক দিক বিবেচনা করে যারা নিতান্তই অসুস্থ বা বৃদ্ধ মহিলা, শিশু এবং বেশ কিছু আহত, তাদেরকে তো আমাদের আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা, এগুলো না দিলেই নয়। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছেন, এখনও আমরা সেটা দিয়ে চলেছি।‘

এদিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা যাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না যায় বা লোকালয়ে মিশে না যায়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে