আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > অর্থ-বাণিজ্য > ৫০ হাজার কোটি টাকার ঈদবাজার! 

৫০ হাজার কোটি টাকার ঈদবাজার! 

৫০ হাজার কোটি টাকার ঈদবাজার! 

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক:

অন্য যেকোনো উৎসবের তুলনায় ঈদুল আজহায় দেশের অর্থনীতিতে টাকার প্রবাহ বাড়ে সবচেয়ে বেশি। বিশেষত গবাদিপশু ও চামড়া বাণিজ্যের কারণে এ প্রবাহ বাড়ে। দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই চামড়া শিল্পের অবস্থান। ফলে ঈদুল আজহা এই শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া সামনে জাতীয় নির্বাচন। এর ফলে এবারের ঈদ উৎসবে থাকবে নির্বাচনী প্রচারণার আমেজ। সে উপলক্ষে অর্থ ব্যয়ের হার আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে দেশে দফায় দফায় বন্যার কারণে ফসলহানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কেনাবেচায় কিছুটা মন্দা চলছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

প্রতি বছরই কোরবানির ঈদে দেশের অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠে। ঈদুল ফিতরের চেয়ে ঈদুল আজহায় অর্থের প্রবাহ বেড়ে যায়। তার ওপর চলতি অর্থবছরে মুদ্রা সরবরাহ বেড়েছে। সেইসঙ্গে লেনদেন রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ ব্যাপক হচ্ছে। তবে বন্যাক্রান্ত মানুষের জীবনে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়লেও ত্রাণ হিসেবে প্রচুর অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর লেনদেনে ব্যাপক অর্থ প্রবাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণত ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘন ঘন হাতবদল হয়। এ সময় অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ বাড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এবার সবমিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা যোগ হওয়ার সম্ভবনা আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, কেনাকাটা ও বিনোদনসহ এ সময় নানাখাতে মানুষের ব্যয় যায় বেড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটন। যুক্ত হয়েছে ঈদ বোনাস। মশলা, পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। সেইসঙ্গে এসবের বাড়ছে দামও। ফলে টাকার প্রবাহ বাড়ছে। বেড়েছে ফ্রিজ, টিভি প্রভৃতি পণ্যের বিক্রি। সব মিলিয়ে একটি ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে অর্থনীতিতে।

এফবিসিসিআই এবং চামড়া শিল্পের সংগঠন বিটিএ, বিএইচএসএমএ এবং বিএফএলএলএফইএ এর সঙ্গে ঈদের অর্থ প্রবাহ নিয়ে কথা হয়। সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, এবার গবাদিপশু বিক্রি বাবদ ২১ হাজার কোটি টাকা, পশুর চামড়া বেচাকেনায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং পরিবহন খাতে যোগ হবে ৬০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে এই ঈদকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত যোগ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে এ অর্থ প্রবাহ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, এবারের কোরবানির ঈদে ২৫ হাজার কোটি টাকার পশু বেচাকেনা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। গত বছর ৪০ লাখ ৬১ হাজার গরু কোরবানি হয়েছিল। যার মূল্য ছিল ১৭ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। তবে বিবিএস এর মতে, এবার গরু কোরবানি প্রায় ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এ হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ গরু কোরবানি হবে। কারণ বন্যার কারণে কোরবানির পশুর দাম কমতির দিকে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও এসেছে কোরবানির জন্য গবাদিপশু। এর ফলে কম দামে পশু কেনাবেচার কারণে বেশি সংখ্যক কোরবানি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মতে, দেশে কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষ রয়েছে ৪৪ লাখ ৫৭ হাজার, ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭১ লাখ। গত বছরের চেয়ে এবার চাহিদা যদি ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে এবার এক কোটি ২০ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। সে হিসাবে এবার গড় একটি গরুর মূল্য কমপক্ষে ৪০ হাজার টাকা ধরলে কোরবানিতে গরুর বাণিজ্য হবে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে কোরবানির পশু বেচাকেনা বাবদ লেনদেন ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংস্থাটি মতামত দেয়।

ব্যাংক সূত্রে, এবার কোরবানি উপলক্ষে চামড়া কেনার জন্য ব্যাংকগুলো কমপক্ষে ৯০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়া ঈদ সামনে রেখে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে দেশে ১১১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা দেশি মুদ্রায় প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। এসব মিলিয়ে দেশের ঈদ অর্থনীতি চাঙা থাকবে বলেই অধিকাংশের মতামত।

এফবিবিসিসিআইয়ের হিসাবে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা, পণ্য পরিবহন মিলে এ খাতে বাড়তি লেনদেন হবে ৬০০ কোটি টাকা। এর বাইরে ভ্রমণ ও বিনোদন খাতে বাড়তি ব্যয় হবে চার হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া সাড়ে ২০ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ঈদ-বোনাস বাবদ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, দেশব্যাপী ৬০ লাখ দোকান কর্মচারীর বোনাস চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা, পোশাক ও বস্ত্র খাতের ৭০ লাখ শ্রমিকের সম্ভাব্য বোনাস দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা যোগ হবে চলমান অর্থপ্রবাহে।

মশলার বাজার গরম : কোরবানির ঈদ, মানেই গরম মশলার গরম অবস্থা। সারা বছরের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই, এ সময়ে। সুযোগ বুঝে, গরম মশলায় নিজেদের পকেট গরম করতে, ব্যবসায়ীরাও একটুও কার্পণ্য করেন না।

এরইমধ্যে প্রকারভেদে গরম মশলার দাম বেড়েছে ১০-২০ শতাংশ। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ আমদানিকারকরা, আমদানি-নির্ভর এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এক মাস আগে এসব পণ্যের দাম যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

সাদা এলাচ, কোরবানি উপলক্ষে কেজিতে দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। দাম বেড়েছে দারুচিনি, লবঙ্গ এবং জিরারও।

নগদ অর্থের টান নেই : প্রতিবছরই ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যায়। আর বাড়তি চাহিদার জোগান দিতে এক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের কাছ থেকে টাকা ধার করে। কিন্তু ঈদের আগে ব্যাংকগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হলেও নগদ অর্থের টান পড়েনি। যার কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট) সুদের হারও বাড়েনি।

নোট শনাক্তে পশুর হাটে ব্যাংক : ঈদ আসলেই জাল নোট প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে পশুর হাটে দালাল চক্র আরো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তে সেবা দিচ্ছে ৪০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। পশুর হাটগুলোতে অস্থায়ী বুথ বসিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মীরা বিনামূল্যে নোট সঠিক কি না তা পরীক্ষা করে দিচ্ছেন।

এসএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে