আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > জাতীয় > চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে মহিলা পরিষদ

চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছে মহিলা পরিষদ

রূপা গণধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের মানববন্ধন

প্রতিচ্ছবি প্রতিবেদক :

ঢাকার আইডিয়াল ল কলেজের ছাত্রী এবং একটি বহুজাতিক কোম্পানির প্রমোশনাল ডিভিশনের কর্মী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে সহসভাপতি রেখা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও এডভোকেসি জনা গোস্বামীর পরিচালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, সহসাধারণ সম্পাদক আ্যড মাসুদা রেহানা বেগম, পরিচালক-লিগ্যাল এডভোকেসি এ্যাড.মাকছুদা আখতার লাইলী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা রূপা ধর্ষণ ও হত্যার তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে তিন মাসের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ গণপরিবহন মালিক সমিতি, পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ ধরনের নৃশংস নির্মম ও রোমহর্ষক ঘটনার জন্য দায়ী এবং দোষীদেরকে চিহ্নিত করে গণপরিবহণ ব্যবস্থা থেকে তাদেরকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানান।

দেশে ক্রমাগত বেড়ে-চলা শিশু ও নারী ধর্ষণের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে বক্তারা বিক্ষোব্ধ ও মর্মাহত হয়ে সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজের সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান যেন এই ক্রমবর্ধমাণ নারী নির্যাতনকে জাতীয় একটি দুর্যোগের মত বিবেচনায় নিয়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করে। এই অপশক্তির কাছে ক্রমে যেন পুরো সমাজ ও দেশবাসী জিম্মি হয়ে পড়ছে।

বক্তারা বলেন, এ সমস্ত নৃশংস নারী নির্যাতন ও হত্যা চলতে থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- কোন সুফলই বয়ে আনবে না, বরং দেশে ও সমাজে নিরাপত্তাহীনতার ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

বক্তারা আরো বলেন, প্রশাসনসহ দেশের রাজনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র এখনো নারী নির্যাতনের ঘটনায় ভিকটিম নারীরই দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করে, এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে নারীরা বাইরে বেরোতে ভয় পাবে, দেশের ও সমাজের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। যাতায়াতের পথে, কর্মস্থলে এমনকি পরিবারেও নারীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনে, উত্ত্যক্তকরণের ও যৌনহয়রানীর শিকার হচ্ছে। এখনই আমাদের সরকার, প্রশাসনসহ সমাজের সকল মানুষের সচেতন হয়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি নাহার আহমেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বুলা ওসমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

এ আর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:

অনুরূপ সংবাদ

উপরে