আপনি আছেন
প্রচ্ছদ > আন্তর্জাতিক > বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করলেই চলছে গুলি

বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করলেই চলছে গুলি

MYANMAR-UN-RIGHTS-RELIGION-UNREST

প্রতিচ্ছবি ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:

জ্বলছে তাদের বসত ভিটা, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না পরিবারের অনেককেই। নিজ দেশের সরকারের কাছে তারা অবাঞ্ছিত আর পাশের দেশ তাদের ঠাঁই দিতে নারাজ। পৈত্রিক সম্পত্তি নিজের জীবনটা নিয়েও কোথাও পালিয়ে যাবার উপায় নেই।

বাংলাদেশের জোড়ালো হুমকির পর মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে আরো কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। কেউ পালিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলেই নির্বিচারে তার ওপর গুলি ছোড়া হচ্ছে। বলাবাহুল্য, যারা গোলাগুলির শিকার হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা এড়াতে পালানোর চেষ্টা করা বেসামরিক রোহিঙ্গাদের উপর গুলি ছুড়ছে সেনারা। বাংলাদেশে পালিয়ে আসার চেষ্টা করা এসব রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদক বাংলাদেশের ঘুমধুম সীমান্তে ১২টিরও বেশি মর্টার শেল ও মেশিনগানের অসংখ্য গোলাগুলির খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের উপর এই গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এতে এখনও কোনও হতাহতের খবর জানা যায়নি।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের আলাদা কোনও জাতিগোষ্ঠীই মনে করে না। বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত ওই জনগোষ্ঠীকে তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে দায়িত্ব অস্বীকার করতে চায়। তবে রোহিঙ্গারা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিক বলেই জানে। নাগরিকত্বকে তারা অধিকার হিসেবেই দেখে। তবে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে গিয়েও তারা অজ্ঞাত হামলার শিকার হচ্ছেন বলে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পর দেয়া বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের বাঙালি উল্লেখ করা হয়। আর ব্রিসবেন টাইমস-এর শনিবারের এক প্রতিবেদন বলছে, বিদ্রোহী রোহিঙ্গা ও নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে আবার নতুন করে শরণার্থীদের ঢল নামছে বাংলাদেশের দিকে।

বিজিবির স্টেশন প্রধান মানজুরুল হাসান খান বলেন, ‘তারা বেসামরিকদের উপর গুলি ছুড়েছে যাতের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এখন তারা জিরো লাইনের নিকটবর্তী পাহাড়গুলোতে লুকিয়ে আছে। তারা বিজিবির সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই হঠাৎ করে মর্টার ও গুলি শুরু হয়েছে।’

ইউরোপীয় রোহিঙ্গা কাউন্সিলের আনিতা সাগ আল-জাজিরাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সুইজারল্যান্ডর সোলোদার্ন থেকে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি সত্যি এবং আমাদের কাছে এর ভিডিও রয়েছে। নিশ্চিত করার প্রয়োজনে আমরা একটা প্রকাশ করতে পারি।তিনি বলেন, ছুরি, তরবারি ও রামদা নিয়ে রাখাইন উগ্রপন্থীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে নিষ্পাপ ও নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের উপর হামলা করছে।

গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যে বড় আকারের সামরিক অভিযান হয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ ওঠে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সামিল বলে উল্লেখ করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা স্যাটেলাইট ইমেজ প্রকাশের মধ্য দিয়ে রাখাইনের দমনপীড়ন ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার তথ্য হাজির করে।

তবে মিয়ানমার ওইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে শুরু থেকেই। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কফি আনানের নেত্বত্বে আলাদা তদন্ত কমিশন গঠন করে তারা। সেই তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের একদিনের মাথায় নতুন করে হামলা ও সংঘর্ষ শুরু হয় বৃহস্পতিবার থেকে। শুক্রবার থেকে বেসামরিক রোহিঙ্গাদোএর ওপর সেনানিপীড়নের খবর সামনে আসতে শুরু করে।

মিয়ানমারএর ডি-ফ্যাক্টো সরকারের আমন্ত্রণেই রাখাইন পরিস্থিতি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিল কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সেই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনেও সংখ্যার বিচারে রোহিঙ্গাদেরকে ‘বিশ্বের সবথেকে বড় রাষ্ট্রহীন সম্প্রদায়’ হিসেবে অভিহিত করে নাগরিকতা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়। প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয় আরোপিত সমস্ত বিধিনিষেধ। এতে সতর্ক করা হয়, স্থানীয় জনগনের বৈধ অভিযোগ উপেক্ষিত হলে তারা জঙ্গিবাদে ঝোঁকার আশঙ্কার কথাও।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি

এম এম

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন:
symphony

অনুরূপ সংবাদ

উপরে